রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্বিক অগ্রগতি ও নির্মাণকাজের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে চার দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। ২০ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত সফরে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কাজ নির্ধারিত সময়ে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ পক্ষের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঢাকায় রুশ দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তি ও ফেসবুক বার্তার বরাতে এসব তথ্য জানা গেছে।
দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, রোসাটমের পারমাণবিক শক্তিবিষয়ক প্রথম উপমহাপরিচালক এবং সংস্থাটির প্রকৌশল শাখা অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের (এএসই) প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেই পেত্রোভ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। সফরকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিনও বিভিন্ন আলোচনায় অংশ নেন।
বাংলাদেশের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকীর মাহবুব আনাম। এ সময় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দ্বিপক্ষীয় এসব বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজের সর্বশেষ অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন এবং প্রকল্পের বাকি কাজ নির্বিঘ্নে এগিয়ে নিতে দুই পক্ষের যৌথ পদক্ষেপ ও সমন্বয়ের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
রুশ দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের পরিবেশকে গঠনমূলক, ইতিবাচক ও আন্তরিক সহযোগিতাপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের ভৌত পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল ও অগ্রগতি নিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়া গেলে প্রথম ইউনিটটি পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে।
পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। রাশিয়ার প্রযুক্তিতে নির্মিত এ প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট স্থাপন করা হচ্ছে। দুটি ইউনিট চালু হলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা হবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।











