আমেরিকা ও ইসরাইলের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধের পর অঞ্চলটিতে ‘কিছুই আর আগের মতো থাকবে না’ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কৌশলগত হরমুজ প্রণালি নতুন বাস্তবতার আলোকে পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে অঞ্চল থেকেই উদ্ভূত যেকোনো নিরাপত্তা পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (২৫ অক্টোবর) তেহরানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় আরাগচি বলেন, এই সংঘাত আঞ্চলিক পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতিতে মৌলিক পরিবর্তন এনেছে।
তিনি বলেন, ‘বর্তমান যুদ্ধ সবকিছু বদলে দিয়েছে। আমাদের অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।’
আরাগচি আরও বলেন, সামুদ্রিক নিরাপত্তার প্রচলিত পদ্ধতিগুলো এখন আর প্রযোজ্য নয়। তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী নৌযানগুলোর পথ আর আগের মতো থাকবে না। একইভাবে, অতীতে যেভাবে প্রণালিটি পরিচালিত হতো, এখন আর সেভাবে পরিচালিত হবে না।’
ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক বলেন, ‘অঞ্চল থেকেই উদ্ভূত যেকোনো নিরাপত্তা পরিকল্পনাকে’ তেহরান স্বাগত জানাবে। এর মাধ্যমে বাইরের হস্তক্ষেপের পরিবর্তে স্থানীয় সমাধানের প্রতি ইরানের অগ্রাধিকার স্পষ্ট হয়েছে।
ফেব্রুয়ারি মাসে আমেরিকা-ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পরিবহন করা হয়। এ জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।
ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে অবাধ নৌ চলাচলের দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে, তেহরান প্রণালিটির মধ্য দিয়ে চলাচল নিয়ন্ত্রণের কর্তৃত্ব নিজেদের বলে দাবি করছে।
ইরান ও আমেরিকা তাদের সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে জুন মাসে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল। তবে পারস্পরিক যোগাযোগের শর্ত এবং ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে মতবিরোধ অব্যাহত থাকায় এরপর থেকে কূটনৈতিক আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে।
প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরাগচির বক্তব্যে সংঘাত-পরবর্তী কাঠামোকে নিজেদের কৌশলগত স্বার্থ অনুযায়ী নতুন করে সাজানোর বিষয়ে তেহরানের দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।
সূত্র: ইয়েনি শাফাক।











