যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানবিরোধী যুদ্ধনীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এই যুদ্ধকে অপ্রয়োজনীয় আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, এমন যুদ্ধের দাবি কেউ জানায়নি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
ওবামা বলেন, বর্তমান প্রেসিডেন্ট একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এমন একটি অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ শুরু করা, যার প্রয়োজন কেউ অনুভব করেনি।
তিনি বলেন, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের প্রভাব ইতোমধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। ইরানে হামলার পর তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল পরিবহন করা হয়।
ওবামার বক্তব্যের জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে রোববার একটি পোস্ট দেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্টের তীব্র সমালোচনা করেন এবং ইরানের সঙ্গে ২০১৫ সালে সম্পাদিত পারমাণবিক চুক্তির প্রসঙ্গ টানেন।
ট্রাম্প লেখেন, ওবামা ছিলেন ‘চরম অযোগ্য’ প্রেসিডেন্ট। তার অভিযোগ, ওবামা ইরানকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দিয়েছিলেন এবং দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন।
ইরানের সঙ্গে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিটি ওবামার প্রেসিডেন্ট থাকাকালে সম্পাদিত হয়। ওই চুক্তির আওতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপের বিনিময়ে দেশটির ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছিল। তবে ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে চুক্তিটির বিরোধিতা করে আসছেন।
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ওবামা ও ট্রাম্পের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইরান যুদ্ধের গুরুত্ব উঠে এসেছে। একই সঙ্গে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্তগুলোও নির্বাচনি বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
সূত্র: আল জাজিরা











