ইরানকে অন্তর্ভুক্ত না করে কোনো উপসাগরীয় নিরাপত্তা কাঠামো কার্যকর করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি। তিনি বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকেই নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে হবে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গার্টন কলেজে ‘ইনক্লুসিভ সিকিউরিটি ইন দ্য গালফ’ শীর্ষক এক বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
বদর আল-বুসাইদি বলেন, কয়েক দশক ধরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ইরানকে বাদ রাখার নেতিবাচক প্রভাব পুরো অঞ্চলের ওপর পড়েছে। ইরানকে অন্তর্ভুক্ত না করে গড়ে তোলা যেকোনো উপসাগরীয় নিরাপত্তা কাঠামো স্বভাবগতভাবেই অস্থিতিশীল এবং কাঠামোগতভাবে দুর্বল।
তিনি বলেন, উপসাগরীয় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন একটি আঞ্চলিক সংলাপ শুরু করা প্রয়োজন। এতে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের ছয় সদস্য দেশ, ইরাক ও ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামো পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বাস্তবায়নের প্রধান দায়িত্ব এ অঞ্চলের দেশগুলোর নিজেদেরই নিতে হবে। বাইরের শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে আঞ্চলিক দেশগুলোকেই দায়িত্বশীল হতে হবে।
তিনি বলেন, বাইরের দেশগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব অব্যাহত রাখা যেতে পারে। তবে এসব অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে সামরিক ও নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির পরিবর্তে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
ইরান ও আমেরিকার মধ্যে আলোচনার বিষয়েও বক্তব্য দেন বদর আল-বুসাইদি। তিনি জানান, গত দুই বছর ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা এবং দীর্ঘদিনের বৈরিতা অবসানের লক্ষ্যে ওমান মধ্যস্থতা করে আসছে। তাঁর মতে, ওই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছিল এবং দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ইরানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ও কারিগরি পরামর্শও করেছে ওমান। এ ক্ষেত্রে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে বাস্তবসম্মত সমঝোতা এবং উভয় পক্ষের ছাড় দেওয়ার মানসিকতা প্রয়োজন।
বদর আল-বুসাইদি ১৯৭৬ সালে মাসকাটে উপসাগরীয় আট দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ওই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল সম্মিলিত আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা। এখন সেই উদ্যোগের চেতনাকে পুনরুজ্জীবিত করে নতুন করে আঞ্চলিক সংলাপ শুরু করার সুযোগ রয়েছে।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উপসাগরীয় আট দেশের মধ্যে একটি অনাগ্রাসন চুক্তি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, টেকসই আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হতে পারে।
সূত্র: ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ওমান নিউজ এজেন্সি











