অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন। এসব অপরাধের মধ্যে নির্মূল, নিপীড়ন, নির্যাতন, ধর্ষণ ও অন্যান্য ধরনের যৌন সহিংসতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে কমিশন বলেছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি বাহিনীর সামরিক হামলা এবং ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা একটি ‘ব্যাপক ও পদ্ধতিগত হামলার’ অংশ হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয়তা, বর্ণ, জাতিগত পরিচয়, লিঙ্গ ও বয়সের ভিত্তিতে ফিলিস্তিনিদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এসব হামলার শিকারদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে। কমিশন আরও বলেছে, ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা ও আহত করা এবং বাড়িঘর ধ্বংসের ঘটনা ফিলিস্তিনিদের উৎখাত ও বাস্তুচ্যুত করার বৃহত্তর কৌশলের অংশ।
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বিমান হামলায় ২৫৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনীর সামরিক হামলা ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতায় ব্যাপক প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ইসরাইলি সামরিক হামলার কারণে পশ্চিম তীরে ১৯৬৭ সালের পর সবচেয়ে বড় বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে। ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ৩৪ হাজার ১৭৬ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত অবস্থায় ছিলেন।
জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন আরও বলেছে, পশ্চিম তীরে নির্যাতন, প্রজনন-সংক্রান্ত সহিংসতা, ধর্ষণ ও অন্যান্য ধরনের যৌন সহিংসতা ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীকে বাস্তুচ্যুত, বশীভূত ও অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। ফিলিস্তিনি শিশুদের বিরুদ্ধেও বয়সের ভিত্তিতে নিপীড়ন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গাজ্জার পরিস্থিতি নিয়েও প্রতিবেদনে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। কমিশনের মতে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজ্জায় ইসরাইলি বাহিনী গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধবিরতির সময় গাজ্জায় ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার বিস্তৃতি আরও বেড়েছে এবং ইসরাইলি হামলায় বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের হতাহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে।
কমিশন বলেছে, এসব অপরাধের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অবৈধ দখলদারিত্ব ও বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ করে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে দখলদারিত্ব অবসানের আহ্বান জানিয়েছে কমিশন।
সূত্র: জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন, রয়টার্স











