spot_img
spot_img

জাতিসংঘে আফগানিস্তানের স্থায়ী আসন ইমারাতে ইসলামিয়ার প্রতিনিধিকে হস্তান্তরের আহ্বান সুহাইল শাহিনের

২০২১ সালের আগস্টে আফগানিস্তানের প্রজাতন্ত্র সরকারের পতনের পর থেকে জাতিসংঘে দেশটির স্থায়ী আসন সাবেক সরকারের কূটনীতিকদের হাতেই রয়েছে। তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন নাসির আহমদ ফায়েক। এদিকে, জাতিসংঘের ক্রেডেনশিয়ালস কমিটি প্রতি বছর ইমারাতে ইসলামিয়ার আসন গ্রহণের আবেদন স্থগিত করে আসছে।

কাতারে ইমারাতে ইসলামিয়ার রাষ্ট্রদূত সুহাইল শাহীন আবারও জাতিসংঘে আফগানিস্তানের স্থায়ী আসনটি বর্তমান সরকারের প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন।

বর্তমান সরকারের কাছে আসনটি হস্তান্তর না করার সমালোচনা করে সুহাইল শাহীন বলেন, জাতিসংঘের উচিত বিদ্যমান বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং আসনটি ইমারাতে ইসলামিয়ার একজন প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তর করা।

তিনি বলেন, “আফগানিস্তানের পুরো দেশ শাসনকারী ইমারাতে ইসলামিয়াকে জাতিসংঘে দেশটির স্থায়ী আসন না দেওয়ার বিষয়টি শুধু অন্যায়ই নয়, বরং এর ফলে কিছু চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে। আসনটি যদি ইমারাতে ইসলামিয়ার একজন প্রতিনিধিকে দেওয়া হতো, তাহলে এর মাধ্যমে অনেক চ্যালেঞ্জের সমাধান করা যেত এবং বার্ষিক সদস্যপদ ফিও পরিশোধ করা হতো।”

একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন, সন্ত্রাসবাদ ও মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে লড়াই এবং মানবাধিকারকে সম্মান করা বর্তমান সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে।

অন্যদিকে, ইমারাতে ইসলামিয়া তার কর্মকর্তাদের নাম কালো তালিকা থেকে সরানো, আফগানিস্তানের জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করা এবং জাতিসংঘে দেশটির স্থায়ী আসন বর্তমান সরকারের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে। এসব শর্ত পূরণের বিষয়ে দুই পক্ষ এখনো কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক সৈয়দ মুকাদ্দাম আমিন বলেন, “গত পাঁচ বছরে ইমারাতে ইসলামিয়া প্রমাণ করেছে যে, আফগানিস্তানে এটি একটি রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং জাতিসংঘের উচিত এটিকে স্বীকৃতি দেওয়া। তবে বিদ্যমান মতপার্থক্যগুলো রাজনৈতিক চাপের পরিবর্তে সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করাই ভালো হবে।”

জাতিসংঘ সনদের ১৯ অনুচ্ছেদের আওতায় সদস্যপদ ফি পরিশোধ না করায় ১৪০২ (২০২৩-২০২৪) সাল থেকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভোটাধিকার থেকেও বঞ্চিত রয়েছে আফগানিস্তান।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তান সর্বশেষ ১৩৯৯ (২০২০-২০২১) সালে জাতিসংঘের সদস্যপদ ফি পরিশোধ করেছিল। এরপর থেকে দেশটির বকেয়া ঋণের পরিমাণ প্রায় ১১ লাখ ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র : টোলো নিউজ

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ