আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশগুলোতে মাদকের ক্রমবর্ধমান চাষ ও পরবর্তী সময়ে তা পাচার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাওলানা আমীর খান মুত্তাকী।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘মাদকের বিরুদ্ধে ইমারাতে ইসলামিয়ার লড়াই’ শীর্ষক এক সম্মেলনে তিনি এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এতে আঞ্চলিক দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় মাওলানা আমীর খান মুত্তাকী মাদক চাষ, উৎপাদন ও পাচার মোকাবিলায় যৌথ আঞ্চলিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, আফগানিস্তানে মাদকবিরোধী কার্যক্রম মূল্যায়নের জন্য বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সরেজমিন পরিদর্শনের ব্যবস্থা করতে ইমারাতে ইসলামিয়া প্রস্তুত রয়েছে।
মাওলানা আমীর খান মুত্তাকী বলেন, বর্তমানে আমাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ও চ্যালেঞ্জ হলো আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশগুলোতে ব্যাপকভাবে মাদকের চাষ এবং পরবর্তী সময়ে তা পাচার। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি এই প্রবণতা প্রতিরোধে মনোযোগ না দেয়, তাহলে এই লড়াই অসম্পূর্ণই থেকে যাবে। তাছাড়া ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের গৃহীত দৃঢ় পদক্ষেপগুলো যদি সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা না হয়, মাদক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিবেদনগুলো যদি অপেশাদারভাবে তৈরি করা হয়, যথাযথভাবে সরেজমিন মূল্যায়ন না করা হয় অথবা পক্ষপাতদুষ্ট গোষ্ঠীগুলোর বয়ানকে প্রচার করা হয়, তাহলে এই সফল অভিযানের প্রতি তা চরম অবিচার হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাদকবিরোধী বিষয়ক উপমন্ত্রী জানান, চলতি বছর মাদকবিরোধী ৮ হাজারের বেশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ১০ হাজারের বেশি সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, হাজারো মাদকাসক্তকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং ২৬ হাজারের বেশি জেরিব জমি মাদক চাষমুক্ত করা হয়েছে।
আবদুর রহমান মুনির জানান, চলতি বছর আনুমানিক ২৬ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে মাদক চাষ করা হয়েছিল। এর বড় একটি অংশ ধ্বংস করা হয়েছে।
আবদুর রহমান মুনির বলেন, সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারে ৮ হাজার ২০০টির বেশি অভিযান, পোস্ত চাষ ধ্বংসে ১২ হাজারের বেশি অভিযান এবং মাদকাসক্তদের আটক করতে ৪ হাজার ৩০০টির বেশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রদেশজুড়ে মাদকাসক্তদের চিকিৎসার জন্য ৬৭টি কেন্দ্র চালু রয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব কেন্দ্রের মধ্যে ৪৬টি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের জন্য, ১৪টি নারী ও শিশুদের জন্য এবং সাতটি কিশোরদের জন্য নির্ধারিত।
২০২২ সালের ৩ এপ্রিল (১৪ হামাল ১৪০১) ইমারাতে ইসলামিয়ার নেতা আফগানিস্তানজুড়ে পোস্ত চাষ ও মাদক উৎপাদন নিষিদ্ধ করে একটি ডিক্রি জারি করেন।
সূত্র: টোলো নিউজ











