স্পেনের মধ্যাঞ্চলে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৬৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৮০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৫ জনের অবস্থা গুরুতর। বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানী মাদ্রিদ থেকে সেভিলগামী একটি রেনফে ট্রেন সামনে থেমে থাকা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইরিওর একটি ট্রেনকে পেছন থেকে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনাটি বুধবার সকাল ৮টা ৫৩ মিনিটের দিকে মাদ্রিদের প্রায় ১১৮ কিলোমিটার দক্ষিণে তোলেদো প্রদেশের উর্দা, মোরো ও অর্গাজ এলাকার মধ্যবর্তী রেলপথে ঘটে। সংঘর্ষের তীব্রতায় ইরিওর দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে রেললাইনের পাশের ঢাল বেয়ে নিচে পড়ে যায়। রেনফের চারটি বগিও লাইনচ্যুত হয়।
স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে জানান, দুর্ঘটনার আগে রেললাইনের নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দেয়। এর ফলে কয়েকটি ট্রেন থেমে যায়। পরে মাদ্রিদের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র থেকে রেনফের ট্রেনটিকে স্বাভাবিকভাবে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। সামনে ইরিওর ট্রেনটি থেমে থাকা অবস্থায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়াকে তিনি “ব্যাখ্যাতীত” বলে উল্লেখ করেন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে তদন্ত চলছে।
ইরিওর ট্রেনে ১৪৭ জন এবং রেনফের ট্রেনে ৩৯৭ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধারে কাজ শুরু করেন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়।
দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তারা জানান, সংঘর্ষের সময় যাত্রীরা ছিটকে পড়েন এবং অনেকে বগির ভেতরে আটকা পড়েন। কেউ কেউ জানালা ও বগির ভাঙা অংশ দিয়ে বাইরে বের হয়ে আসেন।
স্পেনের এল পাইস পত্রিকার সাংবাদিক আন্তোনিও হিমেনেজ বারকা দুর্ঘটনার সময় রেনফের ট্রেনের খাবারের দোকানে ছিলেন। তিনি জানান, সংঘর্ষের তীব্রতায় তিনি কয়েক মিটার দূরে ছিটকে পড়ে মাথায় আঘাত পান। পরে অন্য যাত্রীদের সঙ্গে মিলে আহতদের উদ্ধারে সহায়তা করেন।
প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, পুরো স্পেন শোকাহত। তিনি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং কোনো অবহেলা বা ব্যবস্থাগত ত্রুটি পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ২৯ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
এটি চলতি বছরে স্পেনে দ্বিতীয় বড় রেল দুর্ঘটনা। এর আগে জানুয়ারিতে একই রুটে রেনফে ও ইরিওর দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের দুর্ঘটনায় ৪৬ জন নিহত হয়েছিলেন। নতুন দুর্ঘটনার পর দেশটির রেল নিরাপত্তা ও অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
দুর্ঘটনার কারণে স্পেনের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল বুধবারের নির্ধারিত নির্বাচনী প্রচার কর্মসূচি বাতিল করেছে।
সূত্র: রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান, এপি, এল পাইস











