পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যকার ভ্রাতৃত্বের বন্ধন পাকিস্তানের জন্মেরও আগে থেকে গভীর বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সঙ্গে সংঘাতের সময় তুরস্কের অবিচল সমর্থনের জন্য আঙ্কারার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি পাকিস্তানে বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজে দেখতে তুরস্কের ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) তুরস্কের ১০৩তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে ইসলামাবাদে তুরস্কের দূতাবাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে অর্থনৈতিক শক্তির উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সংঘাত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় তুরস্কের সমর্থনের জন্য দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
দুই দেশের সম্পর্ককে ‘দুই আত্মা, এক হৃদয়’ হিসেবে বর্ণনা করে শাহবাজ শরিফ বলেন, দুই দেশের মধ্যে আরও শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে উঠবে বলে তিনি আশা করেন।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান ও তুরস্কের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি দুই দেশের অভিন্ন ইতিহাস এবং প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরেন।
শাহবাজ শরিফ বলেন, “পাকিস্তান ও তুরস্কের ভ্রাতৃত্বের বন্ধন পাকিস্তানের নিজের জন্মেরও আগে থেকে গভীর।”
২০০৫ সালের ভূমিকম্প ও ২০১০ সালের বন্যার পর পাকিস্তানের প্রতি তুরস্কের সহায়তার কথা উল্লেখ করেন শাহবাজ শরিফ। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সঙ্গে সংঘাতের সময় আঙ্কারার সমর্থনেরও প্রশংসা করেন তিনি।
পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত বছর মার্কা-ই-হক চলাকালে, যখন পাকিস্তান ভারতের নির্লজ্জ আগ্রাসনের মুখে পড়েছিল এবং আমাদের সার্বভৌমত্ব কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছিল, তখন তুরস্ক অটুট অঙ্গীকার ও নিষ্ঠার সঙ্গে দৃঢ়ভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল।
ইয়াওম-ই-মারকা-ই-হক হলো ২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের স্মরণে পাকিস্তান সরকারের ঘোষিত দিবস।
তিনি ২০২৬ সালের ৭ আগস্ট পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা চুক্তির কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই চুক্তি তিন দেশের ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করেছে।
তিনি আরও বলেন, এটি আমাদের সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্ষমতা শক্তিশালী করে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি আমাদের অভিন্ন অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করে।
এ সময় তিনি কূটনীতি, আন্তর্জাতিক আইন এবং বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
পাকিস্তানের তরুণ জনগোষ্ঠী ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তুরস্কের ব্যবসায়ীদের দেশটিতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান শাহবাজ শরিফ।
তিনি করাচিতে পরিকল্পিত ‘প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান স্পেশাল ইকোনমিক জোন’-এর কথাও উল্লেখ করেন। জুলাই মাসে ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত একটি ব্যবসায়িক সম্মেলনে এ প্রকল্পের ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রকল্পটির লক্ষ্য হলো ইসলামাবাদ ও আঙ্কারার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও বাড়ানো।
সূত্র : ইয়েনি শাফাক











