spot_img
spot_img

গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০ কূপ খনন ও সংস্কার করবে সরকার

দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমাতে ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার। এ কর্মসূচির আওতায় আগের ৩২টি কূপের সঙ্গে নতুন করে আরও ১১৮টি কূপ খননের পরিকল্পনা করেছে পেট্রোবাংলা। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ১ হাজার ৭৫২ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।

পেট্রোবাংলার পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী চার অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে এসব কূপ খনন করা হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১৭টি, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৩০টি, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ৩৩টি এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ৩৮টি কূপ খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে এ পর্যন্ত ৩২টি কূপ খনন করা হয়েছে। এসব কূপ থেকে প্রায় ২৮৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে এর মধ্যে দৈনিক প্রায় ১৩৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। আগের ৩২টি কূপসহ নতুন ১১৮টি কূপের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মোট সম্ভাব্য উৎপাদন দৈনিক ১ হাজার ৭৫২ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছাতে পারে।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন ও মাইনস, অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রকৌশলী মো. শোয়েব জানান, দেশের গ্যাসের চাহিদা পূরণ এবং দেশীয় উৎস থেকে উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে চার বছরের এ কর্মসূচি তৈরি করা হয়েছে। পরিকল্পনার বেশির ভাগ কূপ আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে খনন করা হবে।

তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রয়োজনীয় খননযন্ত্রের ঘাটতি ও প্রশাসনিক জটিলতা। পেট্রোবাংলার অনুসন্ধান ও উৎপাদন প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের কাছে বর্তমানে পাঁচটি খননযন্ত্র রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি সংস্কার ও পুনর্গঠনের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে নতুন কূপ খননের জন্য কার্যকর রয়েছে মাত্র দুটি যন্ত্র।

একটি গ্যাসকূপের গড় গভীরতা প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মিটার। একটি খননযন্ত্র দিয়ে বছরে সাধারণত তিনটি কূপ খনন করা সম্ভব হয়। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যন্ত্র স্থানান্তর ও প্রস্তুত করতে উল্লেখযোগ্য সময় প্রয়োজন হয়।

এ সক্ষমতার ঘাটতি পূরণে পেট্রোবাংলা ২ হাজার অশ্বক্ষমতার একটি নতুন খননযন্ত্র কেনার পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি ১ হাজার ৫০০ অশ্বক্ষমতার আরেকটি খননযন্ত্র সংগ্রহের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব তৈরির কাজ চলছে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ১১৮টি কূপের মধ্যে ৪৭টির প্রকল্প প্রস্তুতি বা অনুমোদন কার্যক্রম বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি এখন পর্যন্ত তিনটি কূপের অর্থায়ন অনুমোদন করেছে। এগুলো হলো নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ-৫, বেগমগঞ্জ-৬ এবং সুনামগঞ্জের সুনেত্রা-২। বাপেক্সের এ প্রকল্পের জন্য গত ২২ জুলাই ৭২৯ কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ