সন্ত্রাসবাদ দমনের অজুহাতে আফগানিস্তানের সঙ্গে বৈধ বাণিজ্যপথ বন্ধ রাখার সমালোচনা করেছেন পাকিস্তানের জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের (জেইউআই) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারি সীমান্তপথগুলো বন্ধ রাখা হলেও অবৈধ পথ ও চোরাচালানের রুট এখনো খোলা রয়েছে।
মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, সন্ত্রাসবাদ দমনের কথা বলে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ আফগানিস্তানের সঙ্গে বৈধ বাণিজ্যপথগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে একীভূত ও বসতিপূর্ণ জেলাগুলোর সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোকেও এ সিদ্ধান্তের আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, আপনারা বলছেন, এসব সিদ্ধান্তের কারণ সন্ত্রাসবাদ। এ ছাড়া একীভূত ও বসতিপূর্ণ জেলাগুলোর সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোকেও এর আওতায় এনেছেন। আজও আপনারা আফগানিস্তানের সঙ্গে বৈধ বাণিজ্য পরিচালনার সব পথ বন্ধ করে রেখেছেন। অথচ অবৈধ পথ ও চোরাচালানের রুটগুলো এখনো খোলা রয়েছে।
তাকে আফগানিস্তানে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো সমালোচকদের জবাবে ফজলুর রহমান বলেন, পাকিস্তানই তাঁর দেশ। সমালোচকদের বিরুদ্ধে অতীতে ব্রিটিশদের প্রতি আনুগত্যের ইতিহাস থাকার অভিযোগ তুলে তিনি তাঁদের পূর্বপুরুষ ও ঐতিহাসিক পরিচয় ব্যাখ্যা করার চ্যালেঞ্জ জানান।
তিনি আরও বলেন, আফগানিস্তানও পশতুন ও আফগানদের মাতৃভূমি। পাকিস্তানেও পশতুনরা বসবাস করেন এবং আমরা তাদের দেখাশোনা করতে সক্ষম। কিন্তু আপনাদের বংশপরিচয় কী, তা আমাদের বলুন। নিজেদের ইতিহাস ব্যাখ্যা করুন। অতীতে আপনাদের পূর্বপুরুষেরা ব্রিটিশদের অনুগত ছিলেন কি না? আপনাদের শিক্ষা ও বেড়ে ওঠা কি এখনো ব্রিটিশদের দেওয়া শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠেনি? তাহলে আমি বলছি, পাকিস্তানে বসবাস করার কোনো অধিকার আপনাদের নেই। ব্রিটেনে চলে যান।
এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ওয়াহেদ ফকিরি বলেন, আমার মতে, এটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিভক্তির চিত্র তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে দেখা যাচ্ছে, দেশটির বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও রাজনীতিক পাকিস্তানের বর্তমান নীতির বিরোধিতা করছেন।
এর আগে পাকিস্তানের রাজনীতিক ও বিরোধী দলগুলোও আফগানিস্তান নিয়ে দেশটির নীতির সমালোচনা করেছে এবং এসব নীতি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র : টোলো নিউজ











