আফগান কর্তৃপক্ষ, মার্কিন আইনপ্রণেতা ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে আটক আফগান নাগরিকদের পাকিস্তানে ফেরত পাঠানোর ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আমেরিকার একটি ফেডারেল আদালত। আগামী শনিবার (৭ নভেম্বর) পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আমেরিকার লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের অভিবাসন আটককেন্দ্রে বন্দি বেশ কয়েকজন আফগান নাগরিককে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিল।
এ সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ও সংযত পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি আফগান নাগরিকদের বৈধ অধিকার ও দাবির প্রতি সম্মান জানানোর জন্য আমেরিকার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, সাময়িক সুবিধার বিনিময়ে তৃতীয় কোনো দেশের নাগরিকদের ভাগ্য নিয়ে অন্য দেশগুলোর দর-কষাকষি করা উচিত নয়।
এপি জানায়, নিউইয়র্কের মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক ভ্যালেরি ক্যাপ্রোনি মঙ্গলবার এক আদেশে আগামী শনিবার (৭ নভেম্বর) পর্যন্ত আফগান নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম স্থগিত করেন। মার্কিন সরকার আদালতকে জানিয়েছে, সপ্তাহের শেষ হওয়ার আগে আফগানদের আফগানিস্তান বা পাকিস্তানে ফেরত পাঠাতে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইসিই) কোনো চার্টার্ড বা বাণিজ্যিক ফ্লাইটের পরিকল্পনা করেনি। এ ধরনের কোনো ফ্লাইটের বিষয়েও নিশ্চিত করা হয়নি।
আমেরিকার কংগ্রেসের ৬৬ জন সদস্যের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে নির্বাসনের মুখে থাকা আফগান নাগরিকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পর আদালত এ আদেশ দেন।
অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো জানিয়েছে, পাকিস্তানে ফেরত পাঠানোর সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে নোটিশ পাওয়ার পর আটক ৮০ জনেরও বেশি আফগান নাগরিক তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে কয়েকজনের পরিবারের সদস্যরা মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে কাজ করেছিলেন বলেও জানিয়েছে সংগঠনগুলো।
তবে আদালতের এ আদেশ সাময়িক। এর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আটক আফগান নাগরিকদের ভবিষ্যৎ কী হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
সূত্র : অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, পাজওয়াক আফগান নিউজ











