spot_img
spot_img

ইসরাইলের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক পরিবর্তন চান ভোটাররা: ভ্যান্স

ইরান যুদ্ধ বন্ধের পাশাপাশি দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক পরিবর্তন চান ভোটাররা। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এ কথা বলেছেন আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ভ্যান্স বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনে যারা ট্রাম্প ও তাঁকে ভোট দিয়েছিলেন, তাদের অনেকে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়েছেন। ভোটারদের এই অবস্থান রিপাবলিকানদের পরাজয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।

ভ্যান্স জানান, একজন অভিজ্ঞ জনমত জরিপকারীর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, যেসব ভোটার রিপাবলিকানদের ছেড়ে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়েছেন, তাদের আবার দলে ফেরাতে কী করা প্রয়োজন। জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের কাছ থেকে চারটি বিষয় উঠে এসেছে।

বিষয়গুলো হলো, ইরান যুদ্ধ বন্ধ করা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মনোযোগ দেওয়া, আমেরিকার স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং ইসরাইলের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক পরিবর্তন করা।

ভ্যান্স বলেন, ইরান যুদ্ধই রিপাবলিকানদের পরাজয়ের প্রধান কারণ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা যে কারণে হেরেছি, তা হলো যুদ্ধ। প্রেসিডেন্ট নিজেও গত রাতে এ কথা বলেছেন।”

ইরান সংঘাত কূটনৈতিকভাবে সমাধানের পক্ষে অবস্থান নেওয়া একজন রক্ষণশীল গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বের পরামর্শেরও প্রশংসা করেন ভ্যান্স। তাঁর মতে, ওই ব্যক্তির রাজনৈতিক পরামর্শ সঠিক ছিল। ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত বাড়ানোর পক্ষে যারা অবস্থান নিয়েছিলেন, তাদের অবস্থানেরও সমালোচনা করেন তিনি।

ভ্যান্স আরও বলেন, কেউ যদি মনে করেন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বিনিময়ে আগামী ছয় বছরের জন্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানো গ্রহণযোগ্য ছিল, তাহলে তাকে সেই অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিতে হবে। তবে নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ নিয়ে সৎ আলোচনা করতে হলে যুদ্ধের বিষয়টি সামনে আনতেই হবে।

এদিকে রিপাবলিকানদের পরাজয়ে ইরান যুদ্ধের প্রভাব থাকার কথা স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়াকে নির্বাচনে দলের ক্ষতির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। তবে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প।

আমেরিকার মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে ট্রাম্প ও ভ্যান্সের অবস্থানে আগে থেকেই কিছু পার্থক্য দেখা গেছে। ট্রাম্প ইসরাইল ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানালেও ভ্যান্স তুলনামূলক সংযত অবস্থান নিয়েছেন। গত অক্টোবরে তিনি বলেছিলেন, আমেরিকার মধ্যপ্রাচ্য নীতি ইসরাইলের স্বার্থের অধীন হতে পারে না, বরং এতে আমেরিকার নিজস্ব স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

গত জুনে ইসরাইলি সরকারের কয়েকজন সদস্যের সমালোচনা করে ভ্যান্স বলেছিলেন, তারা ইরান যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের প্রচেষ্টার বিরোধিতা করছেন। পরবর্তী সময়ে জুলাইয়ে তিনি অভিযোগ করেন, ইসরাইলি সরকারের কিছু অংশ যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে আমেরিকার জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ