spot_img
spot_img

সিরিয়া পুনর্গঠনে ৪০ কোটি ডলারের বেশি ঋণ দিচ্ছে সৌদি আরব, স্বাক্ষরিত চুক্তি

সিরিয়ার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার এবং দেশটির পুনর্গঠন ও উন্নয়ন খাতে ৪০ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বেশি ঋণ সহায়তা দিতে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সৌদি আরব ও সিরিয়া।

বুধবার (৫ নভেম্বর) সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা ও সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের উপস্থিতিতে এসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এটি ছিল আল-শারার দ্বিতীয় রিয়াদ সফর।

সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুই দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে স্বাক্ষরিত সহযোগিতা চুক্তিকে অন্য চুক্তিগুলোর মধ্যে ‘সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছে। তবে চুক্তির শর্তাবলি প্রকাশ করা হয়নি।

সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রস্তাবিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি তাঁর সরকার বিবেচনা করছে বলে জানানোর কয়েক দিন পর এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো।

শনিবার বাহরাইনে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তাবিষয়ক সম্মেলন ‘মানামা ডায়ালগে’ আল-শাইবানি বলেন, মক্কা জোটে সিরিয়ার অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি মূল্যায়ন করতে বর্তমানে আলোচনা চলছে।

ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে নতুন করে শুরু হওয়া যুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক উভয় ধরনের সহায়তা পেতে আমেরিকা, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সহযোগিতা চেয়েছে সৌদি আরব। ইয়েমেনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করছে হুথি গোষ্ঠী। এ সংঘাতের মধ্যে গোষ্ঠীটি সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে।

আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রিয়াদে বৈঠকে আল-শারা ও যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান ‘বর্তমান আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি’ নিয়ে আলোচনা করেছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার ওপর কী প্রভাব পড়ছে, তা নিয়েও আলোচনা করেন দুই নেতা।

এতে আরও বলা হয়, তাঁরা উত্তেজনা প্রশমন এবং বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দাব প্রণালি ও হরমুজ প্রণালিতে ‘নৌ চলাচলের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ সব ধরনের কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধের’ আহ্বান জানিয়েছেন।

সিরিয়ার রাজনৈতিক গবেষক আহমেদ কাসেম আলজাজিরাকে বলেন, অল্প সময়ের ব্যবধানে আল-শারার দ্বিতীয়বার সৌদি আরব সফর আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের ব্যাপকতা এবং সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে।

তাঁর মতে, সিরিয়ার মক্কা জোটে যোগ দেওয়া উচিত। কারণ, নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সিরিয়ার ভূখণ্ডে ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে দেশটির একটি ‘প্রতিরোধমূলক শক্তি’ প্রয়োজন।

উন্নয়ন খাতে ৪০ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বেশি ঋণ

আল-শারার সফরকালে সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট সিরিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ছয়টি চুক্তির আওতায় ৪০ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বেশি ঋণ দিতে সম্মত হয়েছে। সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, সহজ শর্তে এ ঋণ দেওয়া হবে।

এসপিএর তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র পুনর্নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহে ১০ কোটি ডলার, ক্ষতিগ্রস্ত আবাসন মেরামতে ৬ কোটি ডলার, বেসামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ১০ কোটি ৫০ লাখ ডলার, আলেপ্পোর তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র পুনর্বাসনে ৯ কোটি ডলার এবং দামেস্ক ও ইদলিবে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা উন্নয়নে ৩ কোটি ডলার বরাদ্দ রয়েছে।

এ ছাড়া শিল্প খাতে সহযোগিতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক এবং কৃষি ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে আরও দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে দুই সরকার।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদের পতনের পর ক্ষমতায় আসেন আহমেদ আল-শারা। এরপর থেকে সিরিয়ার সরকারের অন্যতম প্রধান সমর্থক হিসেবে ভূমিকা পালন করছে সৌদি আরব। গত ৬ অক্টোবর রিয়াদে দুই নেতার সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, ওই বৈঠকে তাঁরা সিরিয়ার পুনর্গঠন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো পুনর্নির্মাণের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

সূত্র : রয়টার্স, আল-জাজিরা, সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ