আফগানিস্তান নিয়ে কয়েকটি দেশের জারি করা ভ্রমণ সতর্কতাকে অযৌক্তিক বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন ইমারাতে ইসলামিয়ার মুখপাত্র মাওলানা জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। তিনি বলেছেন, দেশজুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিদেশি নাগরিক, পর্যটক, সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মীরা কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন না হয়েই আফগানিস্তানে যাতায়াত ও কাজ করছেন।
মাওলানা জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, মানুষের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই এসব ভ্রমণ সতর্কতা জারি করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা বেশ কয়েক বছর ধরেই এসব সতর্কবার্তা শুনে আসছি। কিন্তু বাস্তবে দেখেছি, এতে কারও কোনো ক্ষতি হয়নি। এ থেকে বোঝা যায়, মানুষের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ সৃষ্টি এবং ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এসব সতর্কতা জারি করা হতে পারে। আমি সবাইকে আশ্বস্ত করছি, আফগানিস্তানে কেউ কোনো ধরনের বিপদের মুখে নেই।
চলতি বছর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, কানাডা ও ব্রিটেনসহ প্রায় পাঁচটি দেশ আফগানিস্তান ভ্রমণের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ‘লেভেল-৪’ নির্দেশনা জারি করেছে। এসব দেশের নাগরিকদের আফগানিস্তান ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তাঝুঁকি, আটক ও অপহরণের আশঙ্কাকে এসব সতর্কতা জারির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে দেশগুলো।
এদিকে, ভ্রমণ সতর্কতা নিয়ে ভিন্নমত জানিয়েছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। সামরিক বিশ্লেষক আসাদুল্লাহ নাদিম বলেন, “নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত হলেও বিষয় দুটি ভিন্ন। নিরাপত্তা বলতে যুদ্ধের অনুপস্থিতিকে বোঝায়। অন্যদিকে, ব্যক্তিগত সুরক্ষা বলতে ব্যক্তির নিরাপত্তা এবং তার ব্যক্তিস্বাধীনতা সংরক্ষণকে বোঝায়। আফগানিস্তান নিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোতে প্রায়ই এসব বিষয় তুলে ধরা হয়।”
সামরিক বিশ্লেষক সাদিক শিনওয়ারি বলেন, “বিভিন্ন দেশের জারি করা ভ্রমণ সতর্কতাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত। পাশাপাশি গোয়েন্দা ও নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে সেগুলো মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। এসব উদ্বেগ নিরসনে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।”
এর আগে ইমারাতে ইসলামিয়ার তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, গত পাঁচ বছরে ৩২ হাজারের বেশি বিদেশি পর্যটক আফগানিস্তানের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণ করেছেন।
সূত্র : টোলো নিউজ











