মাদারীপুরের শিবচরে ৯ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে বিচার চাওয়ায় নির্যাতিতার বাবাকে মারধর করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক ও মাদারীপুর ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মুন্সী নাসির। এতে তাকে আটক করে পুলিশ।
আটককৃত মোস্তাফিজুর রহমান মুন্সী নাসির শিবচর উপজেলার বাঁশকান্দি ইউনিয়নে মৃজারচর গ্রামের সাহাবুদ্দিন মুন্সির ছেলে।
জানা যায়, মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাঁশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচারণায় নামে মোস্তাফিজুর রহমান নাসির। সেই হিসেবে দেড় মাস আগে ওই শিক্ষার্থীর বাড়িতে গেলে নাসিরের সঙ্গে শিক্ষার্থীর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে নাসির ওই ছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বন্ধুর বাড়িতে নিয়ে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করে। পরে পরিবারের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে ছাত্রীকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থল থেকে অসুস্থ অবস্থায় মেয়েটিকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এদিকে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে এলাকার মাদবরদের কাছে অভিযোগ দিয়ে কোনো বিচার পায়নি ছাত্রীর পরিবার। পরে বাধ্য হয়ে দারস্থ হন আদালতের। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন অভিযুক্ত নাসির। সমাধানের কথা বলে নির্যাতিতার বাবাকে শনিবার সকালে মাদারীপুর শহরের একটি আবাসিক হোটেলে ডেকে মারধর করেন তিনি। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে নাসিরকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
মেয়েটির বাবা বলেন, নাসির ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও মাদারীপুর ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ায় এলাকায় তার খুব প্রভাব। মাদবরদের কাছে বিচার চেয়েও পাইনি। উল্টো নাসিরের হাতে মার খেতে হয়েছে।
শিবচর থানার ওসি মিরাজ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় মেয়েটির পরিবার এখনো থানায় আসেনি। ইতোমধ্যে সদর ওসি অভিযুক্ত নাসিরকে আটকের কথা মোবাইলে জানিয়েছেন। নাসিরকে থানায় নিয়ে আসতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নির্যাতিতার পরিবার অভিযোগ দিলে মামলা হবে।












