মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর কঠোর অভিযানের মুখে দেশটির হাজার হাজার মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে ঢুকে পড়ছে। এ বিষয়টি রীতিমতো ভাবিয়ে তুলছে ভারত সরকারকে।
বৃহস্পতিবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য বলা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারের হাজার হাজার মানুষ পালিয়ে ভারতের মিজোরাম, মনিপুর এবং নাগাল্যান্ডে আশ্রয় নিচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১৬ হাজারের মতো মানুষ আশ্রয় নিয়েছে এসব অঞ্চলে। সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন মিজোরামের টিয়াও নদীর তীরবর্তী ঘন বনাঞ্চলে। এসব শরণার্থীদের মাঝে গণতন্ত্রপন্থী যোদ্ধারাও রয়েছেন। এসব যোদ্ধারা মিজোরামের গভীর বনে শিবির বানিয়ে প্রশিক্ষণ নেবে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
এসব শরণার্থী ও যোদ্ধাদের গতিবিধির ওপর গভীর দৃষ্টি রাখছে ভারত প্রশাসন। তাদের নিয়ন্ত্রণে না রাখতে পারলে অঞ্চলগুলো মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থীদের বিশাল ঘাঁটিতে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে ভারতীয় কর্মকর্তারা।
মিজোরাম রাজ্য সরকারের একজন উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। এর আগে মিয়ানমারের কিছু যোদ্ধা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিল। পরবর্তীতে তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে। এবারও তাই করা হবে। আমরা কখনই তাদের মিজোরামে প্রশিক্ষণের অনুমতি দেব না। মিজোরাম যেন কোনো ঝামেলায় না পড়ে সেদিকে কড়া নজরদারি থাকবে আমাদের।
ভারতের সরকারি একটি সূত্র বলছে, এটি আসলেই উদ্বেগজনক যে, যদি বিদ্রোহীরা সীমান্ত পেরিয়ে ঢুকে পড়ে, তাহলে তারা নাগা এবং মনিপুরের বিদ্রোহীদের আন্দোলনের আগুনে ঘি ঢালবে।
প্রসঙ্গত, মিয়ানমারের সঙ্গে ভারতের এক হাজার ৬০০ কিলোমিটারের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এই সীমান্তে নয়াদিল্লির শাসনবিরোধী কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীও রয়েছে। ভারতীয় কর্মকর্তারা জানান, এসব গোষ্ঠী সীমান্তের উভয়পাশে নিজেদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মাদক চোরাচালানের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে।
সূত্র: আলজাজিরা, রয়টার্স












