spot_img

‘ভারতে মুসলিমদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে’

ভারতের আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্যে হিন্দুত্ববাদীদের তাণ্ডবে মুসলিম নারীর শ্লীলতাহানি, মুসলমানদের বাড়ী-ঘর, দোকান পাট ও মসজিদ-মাদ্রাসায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসলামী ঐক্য আন্দোলন।

রবিবার (৩১ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটির সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মোস্তফা তারেকুল হাসান বলেন, অনতিবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

মোস্তফা তারেকুল হাসান আরও বলেন, সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ভারতে মাত্র কিছুদিন আগেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলার খুব প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। মানববন্ধন, মিটিং, বিজেপির কড়া বক্তব্য, এদেশে তাদের দূতাবাস থেকেও তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। তাদের পশ্চিমবঙ্গের টিভি চ্যানেলগুলোতে সারাদিনের আলোচনার বিষয় ছিলো বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা। আমরাও তীব্র নিন্দা জানিয়েছি। কিন্তু ঘটনার সূত্রপাত আমাদের মহাগ্রন্থ পবিত্র কুরআন অবমাননার এখনও পর্যন্ত আমরা বিচার পাইনি। প্রশ্ন হচ্ছে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর বর্তমানে যে হামলা হচ্ছে, মুসলিম ঘরবাড়ি, দোকান-পাট জালিয়ে দিচ্ছে, মসজিদে আগুন দিচ্ছে, মাদ্রাসা ভাঙচুর করছে, ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমানদের উপর হামলার এ খবর তারা প্রচার করছে না কেন এবং কোনরূপ প্রতিকারও করছে না কেন? উল্টো পুলিশ বলছে সব ঠিক আছে, এমন কিছুই ঘটেনি। একজন মুসলিম হিসেবে এবং একজন মানুষ হিসেবে মসজিদে হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার নিন্দা জানাই।

তিনি বলেন, হিন্দুত্ববাদী দেশ ভারতের তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষতা আজ কোথায়? বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা কোন ধরণের হামলার শিকার হলে ভারতসহ বিশ্বে তোলপার হয়। ভারতে মুসলমানরা নির্যাতনের শিকার হলে ভারতের মিডিয়া, বিশ্ব মিডিয়া, বিশ্বনেতৃবৃন্দ কোন প্রতিবাদ পর্যন্ত করে না। মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে? বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে এত মাতামাতি! অন্যদিকে ভারতের সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে নীরবতার নীতি! এ কেমন রাজনীতি? এ কেমন মানবিকতা, সাংবাদিকতা, দায়িত্বশীলতা, ধর্মনিরপেক্ষতা আর জাতিসংঘ? আসলে ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ভারত মুসলমান নিধনের হিংসাত্মক খেলায় মেতে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, অনতিবিলম্বে ভারত সরকারকে মুসলমানদের উপর হামলাকারী উগ্রবাদী হিন্দু সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে কঠোর বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। সেইসাথে মুসলমানদের জানমাল এবং মসজিদ-মাদ্রাসাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে যেন এধরণের ঘটনার পূণরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদের দাবানল জ্বলে উঠবে।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ