ইনসাফ | মাহবুবুল মান্নান
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সাবেক সভাপতি, জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ার সাবেক শায়খুল হাদিস, প্রখ্যাত পার্লামেন্টারিয়ান খতীবে আযম আল্লামা ছিদ্দিক আহমদ রহ. এর সুযোগ্য সাহেবযাদা, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পাার্টির অন্যতম উপদেষ্টা, হাটহাজারী মাদ্রাসার মজলিসে শূরা সদস্য ও বরইতলী ফয়জুল উলুম মাদ্রাসার দীর্ঘ ৪০ বছরের মুহতামিম মাওলানা হাফেজ সোহাইব নোমানী রহ. এর ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন নেজামে ইসলাম পার্টি ও ইসলামী ছাত্রসমাজের নেতৃবৃন্দ।
মঙ্গলবার (৪ জানুয়ারি) সংবাদমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে এ শোক প্রকাশ করেন তারা।
নেতৃবৃন্দ বলেন, মাওলানা হাফেজ সোহাইব নোমানী রহ. ছিলেন, একজন অত্যন্ত নম্র, ভদ্র, বন্ধুবৎসল, নিরহঙ্কারী, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন সর্বজনশ্রদ্ধেয় আলেমেদ্বীন। আজীবন দ্বীনি শিক্ষা বিস্তার ও ইসলামী নেজাম প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিবেদিতপ্রাণ একজন সংগ্রামী অভিভাবক ও বিপ্লবী রাহবার। ঈমানী চেতনাদীপ্ত এ বিদগ্ধ আলেমেদ্বীন সারাটি জীবন ইলমে নবভীর দরস-তাদরীসে সময় কাটিয়েছেন। ডাক আসলেই ঈমানী কর্তব্যবোধ থেকে দ্বীনি আন্দোলন-সংগ্রামে সাড়া দিতেন, অভিভাবকত্ব করতেন। বাবা খতীবে আযম রহ. এর স্বার্থক উত্তরসূরী হিসেবে আমৃত্যু আকাবিরে দেওবন্দের হাতে গড়া, ঐতিহ্যবাহী ইসলামী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ও ইসলামী ছাত্রসমাজের সাথে মনেপ্রাণে সম্পৃক্ত ছিলেন।
তারা বলেন, সুদীর্ঘ ৪০ বছর যাবৎ নিজের পিতা খতীবে আযম রহ. প্রতিষ্ঠিত চকরিয়া বরইতলী ফয়জুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও প্রাচীনতম ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্র, উম্মুল মাদারিস খ্যাত জামিয়া আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারীর শুরা সদস্যসহ বিভিন্ন মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় যুক্ত ছিলেন। সর্বোপরী ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের স্বপ্ন নিয়ে তিনি যে অসামান্য অবদান রেখে গিয়েছেন তা যুগ-যুগান্তরে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। অসংখ্য আলেম-ওলামার উস্তায, বর্ষীয়ান এ আলেমেদ্বীনের ইন্তেকালে আমরা একজন দরদী অভিভাবক, সাহসী রাহবার ও আপসহীন মুরুব্বীকে চিরতরে হারালাম। আমরা আল্লাহর দরবারে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করি এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।
উল্লেখ্য, মাওলানা সোহাইব নোমানী সোমবার দিবাগত রাত ১টায় চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ২ ছেলে ও ৪ মেয়েসহ বহু গুণগ্রাহী রেখে যান।











