ইরানে আমেরিকা ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর আরও রক্তপাত ঠেকাতে এবং অঞ্চলকে বড় দুর্ভোগ থেকে রক্ষা করতে মুসলিম বিশ্বকে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, নেতানিয়াহুর উসকানিতে শুরু হওয়া এই হামলা ইরানের সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইস্তানবুলে এক অনুষ্ঠানে রজব তাইয়্যেব এরদোগান বলেন, ইরানের ওপর আমেরিকা ও ইসরাইলের হামলায় তুরস্ক গভীর শোক অনুভব করছে এবং উদ্বেগে রয়েছে। তিনি বলেন, আমেরিকা ও ইসরাইলের এই যৌথ হামলা স্পষ্টভাবে ইরানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে এবং ভ্রাতৃপ্রতিম ইরানি জনগণের শান্তিকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
রজব তাইয়্যেব এরদোগান আরও বলেন, “কারণ যাই হোক না কেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে আমাদের ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর ওপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাকে আমরা গ্রহণযোগ্য মনে করি না।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি সুবিবেচনা প্রাধান্য না পায় এবং কূটনীতিকে সুযোগ না দেওয়া হয়, তাহলে পুরো অঞ্চল আগুনের বলয়ে টেনে নেওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। আরও রক্তপাত ঠেকাতে এবং অঞ্চলকে বড় দুর্ভোগ থেকে রক্ষা করতে সব সংশ্লিষ্ট পক্ষকে, বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বকে, জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রজব তাইয়্যেব এরদোগান বলেন, আঙ্কারা অবিলম্বে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করবে। প্রথমে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা এবং এরপর আলোচনার টেবিলে পুনরায় সংলাপ শুরু করাই হবে তুরস্কের লক্ষ্য।
শনিবার ভোরে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালায় ইসরাইল ও আমেরিকা। তারা দাবি করে, ‘ইরানি শাসনব্যবস্থা’ থেকে উদ্ভূত কথিত হুমকির কারণেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
ওমানের মধ্যস্থতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরান ও আমেরিকার আলোচনা চলার মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটে। জেনেভায় নতুন দফার আলোচনা বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে।
গত জুনেও ইরানের বিরুদ্ধে ১২ দিনের যুদ্ধ শুরু করেছিল ইসরাইল। পরে এতে আমেরিকাও যোগ দেয় এবং ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি











