spot_img

আজ বিএনপি’র ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

আজ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯৭৮ সালের এই দিনে দলটির যাত্রা শুরু হয়। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতেগড়া দলটি এখন সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে বলে মনে করা হয়। দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেয়েছেন।

তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা বিএনপি এমন একটি সময়ে ৪৪ বছরে পা রাখছে, যখন দলটি পাড়ি দিচ্ছে প্রতিকূলতার কঠিন পথ। এক যুগেরও বেশি সময় আগে এক-এগারোর মধ্য দিয়ে যে বৈরী রাজনৈতিক পরিস্থিতির জালে দলটি নিপতিত হয়, সেই বন্ধুর পথ এখনো মসৃণ হয়নি। তবে ‘দমন-পীড়নের চাপ ও রাজনৈতিক নানা কূটকৌশল’ সত্ত্বেও অটুট রয়েছে দলটির ঐক্য। এই ঐক্যের ভিতে দাঁড়িয়েই দলটি স্বপ্ন দেখছে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের। সেই পরিবর্তনের প্রত্যাশা সামনে রেখেই আগামী জাতীয় নির্বাচনকেন্দ্রিক পরিকল্পনা সাজাচ্ছে দলটি।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ক্ষণে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন,আমরা ১২-১৩ বছর ধরে একটা ফ্যাসিবাদী সরকারের রোষানলে আছি, যারা জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছে। যারা এ দেশের মানুষের সব আশা-আকাক্সক্ষা ও সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য এমন কোনো কাজ নেই যে তারা করছে না। এ কারণেই বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, বিএনপির জন্ম হয়েছে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তে, ইতিহাসের প্রয়োজনে। থযখন বাংলাদেশের সমস্ত রাজনৈতিক দল ব্যর্থ হয়েছে, তখনই এই দলটি প্রতিষ্ঠা করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের মানুষের সামনে একটা নতুন আশার আলো সৃষ্টি করতে পেরেছিলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্র চায়। আমরা আশা করছি, জনগণের ঐক্যবদ্ধ ও স্বতঃস্ফূর্ত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নতুন করে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াবে। আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে সম্পূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক। আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে মুক্ত, এটাই হচ্ছে বিএনপির মূল লক্ষ্য।

বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন বিএনপি মহাসচিব।

চার দশক আগে রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় বিএনপির। দীর্ঘ এই পথপরিক্রমায় দলটি যেমন তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হয়েছে, তেমনি বহুবার সীমাহীন প্রতিকূল পরিস্থিতিও মোকাবেলা করেছে। ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত এক-এগারো সরকারের সময়ে দলটির ওপর যে মামলা, হামলা, জেল, জুলুম শুরু হয়েছিল তার ধারাবাহিকতা এখনো চলছে।

বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা এখন এক লাখেরও বেশি। দলটির তথ্য অনুযায়ী, এক লাখের উপরে রাজনৈতিক মামলা রয়েছে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে, সেখানে আসামি করা হয়েছে ৩৫ লাখের উপরে মানুষকে। ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাস থেকে বর্তমান পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। এদের অধিকাংশই বিরোধী দলের নেতাকর্মী। এর বাইরে গুম হয়েছেন পাঁচ শতাধিক।

২০১৮ সালে একাদশ নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যানের পর বিএনপি আন্দোলনমুখী না হয়ে আবার দল পুনর্গঠনের কাজে নেমেছে। জানা গেছে, ২০২৩ সালের নির্বাচনকে টার্গেট করে বিএনপি দ্রুত দল গোছানোর কাজে নেমেছে। ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগরে আহবায়ক কমিটি দেয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসংগঠনগুলোতেও দ্রুত নতুন কমিটি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দল গুছিয়ে দ্বাদশ নির্বাচনের আগে ‘নিরপেক্ষ নির্বাচন’ অনুষ্ঠানে দলটির যেসব দাবি রয়েছে, তা আদায়ে ফের সর্বাত্মক কর্মসূচি গ্রহণ করা হতে পারে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবি নিয়েও তৎপর হবে দলটি।

প্রতিষ্ঠার পটভূমি ও পথপরিক্রমা :

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রতিষ্ঠার আগে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়ে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট গঠন করেছিলেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচন এগিয়ে এলে তিনি বিএনপি গঠন করেন। রাষ্ট্রপতি জিয়া এই দলের প্রথম চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ছিলেন প্রথম মহাসচিব।

অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য এবং জনগণের মধ্যে স্বনির্ভরতার স্বপ্ন জাগিয়ে তোলাই ছিল জিয়াউর রহমানের মূলমন্ত্র। এর ফলে দলটি প্রতিষ্ঠার অল্প সময়ের মধ্যেই অভূতপূর্ব সাফল্য এসে ধরা দেয়। জিয়াউর রহমান স্বল্প সময়ের অক্লান্ত কর্মের মধ্য দিয়ে যেন ছড়িয়ে পড়েন পুরো বাংলাদেশে। জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সাথে ইসলামী মূল্যবোধের মিশ্রণ তার দলকে আরো জনপ্রিয় করে তোলে। তার ঘোষিত ১৯ দফাকে দল ও সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে এক ‘রাজনৈতিক দর্শন’ হিসেবেই আখ্যায়িত করা হয়। ১৯৮১ সালের ৩০ মে বিপথগামী কিছু সেনাসদস্যের হাতে জিয়াউর রহমান শাহাদতবরণের কিছু পর স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে উত্থান ঘটে বেগম খালেদা জিয়ার।

১৯৯০ সালে গণতন্ত্রায়নের পর ২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশে চারটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিনটিতেই বিএনপি জয়লাভ করে। তবে এক-এগারো সরকারের দুই বছর পর ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনে দলটি পরাজিত হয়। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনের নির্বাচনের দাবি আদায় না হওয়ায় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে অংশ নেয়নি তারা। চরম বৈরী পরিবেশ সত্ত্বেও ২০১৮ সালে একাদশ নির্বাচনে অংশ নেয় দলটি। কিন্তু মাত্র সাতটি আসন পায়। নির্বাচনে ভোট ডাকাতি হয়েছে অভিযোগ করে দলটি ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে। ওই নির্বাচনের এক বছর আগে কারাবন্দী হন বেগম খালেদা জিয়া। তখন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন তারেক রহমান।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ