ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘বিষধর সাপ’ আখ্যা দিয়ে তীব্র আক্রমণ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
তিনি অভিযোগ করেছেন, নেতানিয়াহু কৌশলে বিষধর সাপের মতো আমেরিকাকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলেছেন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, হিব্রু ভাষায় ইসরাইলিদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু আমেরিকাকে প্রভাবিত করার বিষয়ে ‘গর্ব’ করেন এবং কীভাবে তিনি ওয়াশিংটনকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াতে সক্ষম হয়েছেন, তা নিয়ে হাস্যরসও করেন।
একই সময়ে, ভাষা পরিবর্তন করে ইংরেজিতে কথা বলার সময় নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন বলে উল্লেখ করেন আরাঘচি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ, ইসরাইলের স্বার্থে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করতে নেতানিয়াহু মার্কিন প্রশাসনকে ‘বোকা বানিয়েছেন’ বা কৌশলে রাজি করিয়েছেন।
আরাঘচি আরও বলেন, নেতানিয়াহু দাবি করছেন, মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রায় এক হাজার ঘণ্টা প্রচারের মাধ্যমে তিনি আমেরিকার জনমত ও নীতিনির্ধারকদের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছেন।
তিনি অভিযোগ করে বরেন, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী এই প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে ওয়াশিংটনকে ইসরাইলের হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামিয়েছেন।
আরাঘচির এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত তীব্র হয়েছে। সোমবার হরমুজ প্রণালির লারাক দ্বীপে ইরানের রকেট উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালায় আমেরিকা।
ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে মাইন পেতে জাহাজ চলাচলে হুমকি তৈরির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল।
এর জবাবে ইরান জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল মিনহাদ ঘাঁটিতে হামলার দাবিও করেছে তেহরান। তবে আবুধাবি ওই দাবির কিছু অংশ অস্বীকার করেছে।
এতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে সংঘাতের নতুন করে বিস্তারের প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
ফলে আমেরিকা-ইরান সংঘাত কেবল মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিই নয়, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: এএফপি











