আল জাজিরার প্রকাশিত রেকর্ডিং ও নথিতে উৎখাত হওয়া শাসনামলের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের গোপন তৎপরতার তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। ফাঁস হওয়া এসব উপকরণে দেখা যায়, শাসন পতনের পর তারা নিজেদের সংগঠন পুনর্গঠনের চেষ্টা করেছে এবং বিশেষ করে সিরিয়ার উপকূলীয় এলাকায় সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অভিযানের পরিকল্পনা করেছে।
আল জাজিরা জানায়, তাদের হাতে আসা নথি ও রেকর্ডিংয়ে উৎখাত শাসনের অবশিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন, সংগঠন এবং সদস্য সংগ্রহের বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। এতে অপরাধী শাসনের সেনাবাহিনীর সাবেক বিশেষ বাহিনীর কমান্ডার সুহাইল আল-হাসান এবং উপকূলীয় অঞ্চলের আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকে ঘিরে করা পরিকল্পনার বিষয়ও উঠে এসেছে।
চ্যানেলটির তথ্যমতে, ফাঁস হওয়া উপকরণগুলোর মধ্যে ৭৪ ঘণ্টারও বেশি সময়ের রেকর্ড করা ফোনালাপ ও কথোপকথন রয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়ায় অবস্থানরত অপরাধী সুহাইল আল-হাসানের সঙ্গে শাসনামলের সেনাবাহিনীর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ঘিয়াস দাল্লার একটি ফোনালাপও রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ঘিয়াস দাল্লা বর্তমানে লেবাননে অবস্থান করছেন।
নথিতে আরও প্রকাশ পায়, এক তৃতীয় সিরীয় ব্যক্তি নিজেকে সিরিয়া বিষয়ক দায়িত্বে থাকা একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে এসব কর্মকর্তার ফোন হ্যাক করতে সক্ষম হন। তিনি তাদের আন্দোলনের কথিত সমর্থক সেজে যোগাযোগ বজায় রাখেন এবং উপকূলীয় এলাকায় তাদের সামরিক পরিকল্পনা সমন্বয় করেন।
২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের এসব রেকর্ডিং থেকে জানা যায়, ‘সুহাইল আল-হাসান ব্রিগেড’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক হচ্ছেন বাশার আল-আসাদের চাচাতো ভাই, অপরাধী রামি মাখলুফ। ফাঁস হওয়া রেকর্ডিংয়ে সুহাইল আল-হাসান দাবি করেন, তার দলে বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা ও সেনা রয়েছে এবং তারা রামি মাখলুফের কাছ থেকে সহায়তা পেয়েছে।
বুধবার আল জাজিরায় প্রচারিত একটি রেকর্ডিংয়ে ফোন হ্যাকার অপরাধী সুহাইল আল-হাসানের কাছে জানতে চান, আসন্ন উপকূলীয় অভিযানের জন্য কোনো নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে পরামর্শ বা সমর্থন রয়েছে কি না। জবাবে আল-হাসান বলেন, এসব উদ্যোগ সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন রামি মাখলুফ।
রেকর্ডিংগুলোতে আরও দেখা যায়, যাকে তিনি একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলে মনে করছিলেন, তাকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করেন সুহাইল আল-হাসান। এ সময় তিনি গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসনসহ ইসরায়েলের প্রতি নিজের সমর্থনের কথাও প্রকাশ করেন।
এদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নূর আল-দিন আল-বাবা আল জাজিরাকে বলেন, ফাঁস হওয়া নথি ও রেকর্ডিং প্রমাণ করে যে, সাবেক শাসনের উপাদানগুলো সিরিয়ার শত্রু শক্তির সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত, যাতে তারা বিচ্ছিন্নতাবাদী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে পারে। তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের কাছে বিলুপ্ত শাসনের নেতাদের অবস্থান, যোগাযোগ এবং পরিকল্পনা সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।
নূর আল-দিন আল-বাবা আরও বলেন, “সাবেক শাসনের উপাদানগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে সরকারি ও ধর্মীয় ছুটির সময় হামলা চালায়।” তিনি উল্লেখ করেন, তারা সিরিয়ার জনগণের ক্ষতির বিনিময়ে অর্জিত বিপুল অর্থনৈতিক স্বার্থ নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।
আল জাজিরায় সম্প্রচারিত এই রেকর্ডিংটি চ্যানেলটির হাতে থাকা একাধিক একচেটিয়া উপকরণের একটি। চ্যানেলটি জানিয়েছে, ধারাবাহিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে আরও রেকর্ডিং প্রকাশ করা হবে। এসব প্রতিবেদনে উৎখাত শাসনের অবশিষ্টদের অর্থায়ন, সংগঠন ও সদস্য সংগ্রহের বিষয় তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি সিরিয়ার উপকূলীয় এলাকায় অপরাধী সুহাইল আল-হাসান ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের পরিকল্পনাও প্রকাশ পাবে। পূর্ণাঙ্গ নথি ও দীর্ঘ রেকর্ডিংগুলো পরবর্তীতে আল জাজিরার ‘আল-মুতাহারি’ অনুষ্ঠানে সম্প্রচার করা হবে।
সূত্র: সানা নিউজ











