ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন কুমিল্লা ৪ দেবিদ্বার আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে মনোনীত প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান প্রশাসন নিরপেক্ষতা হারিয়ে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের, বিশেষ করে বিএনপির দিকে ঝুঁকে পড়েছে।
হাসনাত বলেন, “ফ্যাসিবাদ বিদায়ের পর আমরা যে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রশাসনের স্বপ্ন দেখেছিলাম, বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। আজকের প্রশাসনের দ্বিচারিতা ও পক্ষপাতমূলক আচরণ আমাদের গভীরভাবে হতাশ করেছে।”
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, দেবিদ্বার ০৪ আসনের একজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী হলফনামায় নিয়ম ভঙ্গ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রমাণসহ লিখিত কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও প্রশাসন ওই প্রার্থীর মনোনয়ন অনুমোদন দিয়েছে।
তার মতে, এই সিদ্ধান্ত আসন্ন জাতীয় নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে, সে বিষয়ে জনমনে বড় ধরনের সন্দেহ সৃষ্টি করেছে।
প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “৫ আগস্টের পর আমরা দেখেছি কীভাবে জুলাই মাসকে কুক্ষিগত করা হচ্ছে। জুলাই যোদ্ধাদের ওপর হামলা হয়েছে, প্রকাশ্যে হাদি ভাইকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। অথচ এসব ঘটনায় জড়িতদের এখনো দৃশ্যমান কোনো বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়নি। প্রশাসনের এই নিষ্ক্রিয়তা প্রশ্নবিদ্ধ।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসন বিভিন্নভাবে সংস্কারের চেষ্টা করলেও কিছু রাজনৈতিক দল তাদের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সেই সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছে। তবে আসন্ন নির্বাচনই প্রমাণ করবে প্রশাসন আদৌ কতটা সংস্কার হয়েছে কিংবা হয়নি।
তিনি জানান, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে মনোনীত হয়ে তিনি “শাপলা কলি” প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “১২ তারিখ সবাই কেন্দ্রে এসে ভোট দেবেন। ইনশাআল্লাহ, সকলের ভোটের মাধ্যমে শাপলা কলি বিজয়ী হবে।”











