spot_img
spot_img

নামাজ পড়া ও মাদক থেকে বিরত থাকার শর্তে আসামিকে মুক্তি দিয়েছে আদালত

উপস্থিত সবার উদ্দেশে আদালত বলেন, মানুষ অপরাধী হয়ে জন্মগ্রহণ করে না। বিভিন্ন কারণে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। ছোটখাটো অপরাধ হলে তাকে শাস্তি না দিয়ে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত। কারাগারের বাইরে রেখে সাজাপ্রাপ্তদের সংশোধনের সুযোগ দিতে দীর্ঘদিনের পুরোনো আইনটি সচল করা প্রয়োজন। বিশ্বের অনেক দেশে এমন আইন চালু রয়েছে।

আদালত প্রবেশন অব অফেন্ডার্স অর্ডিন্যান্সের ১৯৬০ অধীনে নামাজ পড়া, ১০০টি গাছ রোপণ, নতুন করে কোনো অপরাধে জড়িত না হওয়া, মাদক সেবন থেকে বিরত থাকা, শান্তি রক্ষা ও সদাচরণ করা, আদালতের নির্দেশমতো হাজির হওয়াসহ নানা শর্তে মুক্তি দেন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে। এসব শর্তের কোনোটি ভঙ্গ করা হলে তাকে আদালতের দেওয়া তিন বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড কারাগারে থেকে ভোগ করতে হবে।

মঙ্গলবার (২ আগস্ট) মৌলভীবাজার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মুহম্মদ আলী আহসান এই রায় দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৬ আগস্ট শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিরাজনগরে মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাহমুদ মিয়া নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে নুর মিয়াসহ চারজনকে আসামি করে মামলা করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে নুর মিয়ার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ৩২৫ ধারার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আজ তাকে তিন বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। যা আজ থেকে শুরু হবে।

দণ্ডপ্রাপ্ত নুর মিয়ার দুজন নাবালক সন্তান থাকায় ও পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় তাকে কারাগারে না পাঠিয়ে সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন আদালত।

মৌলভীবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাবেক সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এ এস এম আজাদুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, আদালতের এমন ব্যতিক্রমী রায়কে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন আইনজীবী ও বিচারকরা। তার পেশাজীবনে এ ধরনের ব্যতিক্রমী রায় দেখেননি। অপরাধ সংশোধনে এমন রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ