spot_img

সরকার বিনাভোটে ক্ষমতার রাজসিংহাসনে বসে আছে: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকার বিনাভোটে ক্ষমতার রাজসিংহাসনে বসে আছে। ওই সিংহাসনের পা ধরে ধুলায় লুটিয়ে দিতে হবে। তাহলে আবার এদেশে গণতন্ত্রের সুবাতাস ফিরে আসবে।

মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে খাদ্যপণ্য, ও ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পে ব্যবহৃত সুতা, রঙ,ক্যামিকেল এর দাম ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তাঁতী দল আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, বাংলাদেশ আজ এমন এক অবস্থায় শেখ হাসিনা নিয়ে গেছে যার না আছে স্বাধীনতা, না আছে সার্বভৌমত্ব, আর গণতন্ত্র অনেক দিন আগেই গোরস্থানে কবর দিয়েছেন তিনি। তার যা ইচ্ছা তিনি তাই করবেন এ জন্য তাকে কোন জবাবদিহি করতে হবে না।

তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট মানে রাষ্ট্রের অভিভাবক, জাতির অভিভাবক, কিন্তু বর্তমান প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট। একটা অবৈধ পার্লামেন্ট থেকে নির্বাচিত অবৈধ প্রেসিডেন্ট। তার নাক দিয়ে যদি একটু পানিও পরে হয় যাচ্ছেন সিঙ্গাপুর, না হয় লন্ডন। আর বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কথা বারবার বলা হয়েছে। যে তিনি বাইরে থেকে চিকিৎসা নিয়ে আসবেন। প্রধানমন্ত্রী কি মনে করেন? আপনি (প্রধানমন্ত্রী) ১/১১ এর সময় মুচলেকা দিয়ে দেশ ছেড়েছিলেন, কিন্তু খালেদা জিয়া কি দেশ ছেড়েছেন?

বিএনপির এ নেতা বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ১৭ টি ফাইল গায়েব হয়ে যায় এতে কি বুঝতে বাকী আছে? এটা করো বুঝতে বাকি নেই। আমার মনে হচ্ছে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, এমপি, নেতারা দেশ ছেড়ে চলে যেতে চাচ্ছে। তাই যাতে কোনো ডকুমেন্ট না থাকে সেজন্য এই ১৭টি ফাইল গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। কারণ সামনে কোন পরিস্থিতি হয়, আবার এই ফাইলগুলো থেকে কত টাকা কোন জায়গা থেকে কত পার্সেন্টেস দেয়া হয়েছে তার যদি কোনো ডকুমেন্ট থেকে থাকে এ জন্যই ফাইলগুলো হাওয়া করে দেয়া হয়েছে।

রিজভী বলেন, আজকে প্রত্যেকটি জায়গা থেকে আওয়ামী লীগের নেতাদের পার্সেন্টিস নিশ্চিত করতেই দ্রব্যমূল্য বাড়ছে। মানুষের গলায় পা দিয়ে তারা টাকা তুলছে এই ক্ষমতাসীনরা। তারা অনির্বাচিত। তারা অগণতান্ত্রিক, তাদের নির্বাচনের দরকার নেই। তাই যারা ডাকাত, লুটেরা, দস্যুবৃত্তি যাদের রাজনীতি তারা কখনোই জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে চায় না।

তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণ করলেও তাদের কোনো নদীর পানি বিশাক্ত নয়। আর আপনার তুরাগ নদী, বুড়িগঙ্গা নদী নর্দমায় পরিণত করেছেন শেখ হাসিনা। আর আপনি গেছেন গ্লাসগোতে জলবায়ু সম্মেলনে। বাহ কি বৈপরিত্য, কি স্ববিরোধীতা।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে রিজভী বলেন, আপনি আমাদের নেতা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বিশেধগার করেন। এটা আপনার সহজাত বৈশিষ্ট, এটা ছাড়া আপনার ঘুম হয় না। জিয়া পরিবার, খালেদা জিয়া, জিয়াউর রহমান, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সমালোচনা না করলে শেখ হাসিনার ঘুম হয় না। গ্লাসগোতে গিয়েও তারেক রহমান সাহেবের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করেছেন। আপনি যে সময় তুরাগ নদী, বুড়িগঙ্গা নদী নর্দমায় পরিণত করেছেন, আপনার পুলিশের মামলা, গ্রেফতারের হুমকীর মুখেও বিএনপির নেতাকর্মীরা তারেক রহমানের নির্দেশে বাংলার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে বর্ষার মধ্যে বৃক্ষ রোপন করেছে। তাই তারেক রহমান আর শেখ হাসিনার মধ্যে আকাশপাতাল পার্থক্য। আপনি ধ্বংসের পক্ষে আর তারেক রহমান সৃষ্টির পক্ষে।

তিনি বলেন, আপনি অর্থের কথা বলেন? তারেক রহমান অর্থ কোথায় পায়? আপনার ফরিদপুরের ছাত্রলীগ নেতা ২হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে, তারপরও আপনি কোন লজ্জায় এসব কথা বলেন। আপনার একজন মন্ত্রীর ছেলে নিউইয়র্কে সবচেয়ে দামি এপার্টমেন্ট কিনেছে। খবরের কাগজে এসেছে, বানিয়ে বলছি না। তারপরও আপনি দুর্নীতির কথা বলেন। আজকে মানুষের মুখে মুখে বেগম পাড়া, সেকেন্ডহোম, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়ায় বাড়ি ঘর। আপনি কি খবরের কাগজ একবারও পড়েন না।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ