spot_img
spot_img

প্রদীপের স্ত্রী চুমকি আত্মগোপনে, ভারতে রয়েছে ৩টি বাড়ি

২০২০ সালের ৩১ জুলাই সংঘটিত মেজর (অব.) সিনহা মুহাম্মাদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় বিতর্কিত ওসি (বরখাস্ত) প্রদীপ ও লিয়াকতের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মাদ ইসমাইল এ রায় ঘোষণা করেন।

এদিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া প্রদীপ কুমার দাশের দুর্নীতির মূল সহযোগী স্ত্রী চুমকি কোথায় আছেন, তা বলতে পারছেন না কেউ।

চট্টগ্রাম নগরীর পাথরঘাটায় প্রদীপের ছয় তলা বাড়ি লক্ষ্মীকুঞ্জে সন্তান নিয়ে থাকতেন তিনি। ২০২০ সালে প্রদীপ গ্রেফতার হওয়ার পরপরই তিনি আত্মগোপনে চলে যান। বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, চুমকি বহু আগেই সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে গেছেন। ভারতের আগরতলা, কলকাতার বারাসাত ও গৌহাটিতে প্রদীপ-চুমকি দম্পতির নিজস্ব বাড়ি রয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

২০২০ সালের ২৩ আগস্টে প্রায় চার কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকি কারণের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জেলা সমন্বিত কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ সহকারী পরিচালক মুহাম্মাদ রিয়াজ উদ্দিন একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, স্বামী ওসি প্রদীপ কুমার দাশের ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অপরাধলব্ধ অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরপূর্বক একে অপরের সহযোগিতায় ভোগদখলে রেখে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন চুমকি কারণ।

২০২০ সালে ২০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল দায়রা জজ আশফাকুর রহমান ওসি প্রদীপ ও তার স্ত্রীর নামে থাকা সম্পদ ক্রোক করার নির্দেশ দেন।

প্রদীপ কুমার দাশের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিষয়ে অভিযোগ ওঠায় ২০১৮ সালের জুনের মাঝামাঝি থেকে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করে চট্টগ্রামের দুদক। এরপর ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল বরখাস্ত ওসি প্রদীপ ও তার স্ত্রীকে সম্পদের হিসাব জমা দিতে বলা হলেও চুমকি সেটা জমা দেন ২০১৯ সালের ১২ মে তারিখে।

দুদকের দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, চট্টগ্রামের পাথরঘাটায় ছয়তলা বাড়ি, ষোলশহরে বাড়ি, ৪৫ ভরি সোনা, একটি ব্যক্তিগত গাড়ি, একটি মাইক্রোবাস, ব্যাংক হিসাব এবং কক্সবাজারে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে চুমকির নামে। তার চার কোটি ৮০ লাখ ৬৪ হাজার ৬৫১ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিপরীতে বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় দুই কোটি ৪৪ লাখ ৬৬ হাজার ২৩৪ টাকা। ফলে দুই কোটি ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার ৪১৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি।

এছাড়া চুমকি নিজেকে মৎস্য ব্যবসায়ী দাবি করলেও এ ব্যবসায়ের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

হিসাব বিবরণীতে চুমকির স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে নগরীর পাথরঘাটা এলাকায় চার শতক জমি (দাম ৮৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকা)। ওই জমিতে গড়ে তোলা ছয়তলা ভবন (মূল্য এক কোটি ৩০ লাখ ৫০ হাজার); পাঁচলাইশে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কেনা হয় ৬ গণ্ডা ১ কড়া ১ দন্ত জমি (দাম এক কোটি ২৯ লাখ ৯২ হাজার ৬০০ টাকা); ২০১৭-১৮ সালে কেনা হয় কক্সবাজারে ঝিলংজা মৌজায় ৭৪০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট (দাম ১২ লাখ ৩২ হাজার টাকা)। সব স্থাবর সম্পদের মূল্য দেখানো হয়েছে তিন কোটি ৫৯ লাখ ৫১ হাজার ৩০০ টাকা।

এছাড়া অস্থাবর সম্পদের মধ্যে দেখানো হয়েছে প্রাইভেটকার (দাম পাঁচ লাখ টাকা), মাইক্রোবাস (দাম সাড়ে ১৭ লাখ টাকা) ও ৪৫ ভরি স্বর্ণ। ব্যাংকে ৪৫ হাজার ২০০ টাকা দেখানো হয়েছে।

জানা যায়, দুদকে প্রদর্শিত সম্পদের বাইরে প্রদীপ দাশের চট্টগ্রামের লালখানবাজারে একটি ফ্ল্যাট, কক্সবাজারে দুটি হোটেলের মালিকানা, দেশের বিভিন্ন স্থানে জায়গা-জমি ও ভবন রয়েছে। এছাড়া ভারতের আগরতলা, কলকাতার বারাসাত, গৌহাটিতে তার বাড়ি রয়েছে।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ