আফগানিস্তানজুড়ে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের পরিধি ক্রমেই বাড়ছে। শিল্পায়ন, বিনিয়োগ, ব্যাংকিং, খনি, পরিবহন ও কৃষিখাতে নতুন উদ্যোগের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হচ্ছে। ইমারাতে ইসলামিয়ার নেতৃত্বে নেওয়া পাঁচ বছর মেয়াদি উন্নয়ন কৌশলের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয় জোরদার করে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে।
রোববার (২ আগস্ট) কাবুলের সরকারি গণমাধ্যম ও তথ্যকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘সংবাদমাধ্যমের আয়নায় সরকার’ শীর্ষক দ্বিতীয় সম্মেলনে আফগানিস্তানের চলমান অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে বক্তব্য রাখেন ইমারাতে ইসলামিয়ার মুখপাত্র মাওলানা জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ।
মাওলানা মুজাহিদ বলেন, অর্থনীতি মন্ত্রণালয় পাঁচ বছর মেয়াদি একটি উন্নয়ন কৌশল প্রণয়ন করেছে। ইমারাতে ইসলামিয়ার নেতৃত্ব এ কৌশলের অনুমোদন দিয়েছে। কৌশলটি তিনটি মূল স্তম্ভ ও ১৫টি কর্মসূচি নিয়ে গঠিত। এসব কর্মসূচির লক্ষ্য হলো সুশাসন ও আইনের শাসন জোরদার করা, জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা।
তিনি বলেন, ‘এই কৌশলে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা এবং শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এটি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ৫৭৬টি কারখানার জন্য জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুন ১৭৪টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান কার্যক্রম শুরু করেছে।
ব্যাংকিং খাতের বিষয়ে আফগান মুখাপাত্র বলেন, গত বছরের তুলনায় আফগানি মুদ্রার মূল্য ছয় শতাংশ বেড়েছে। ব্যাংকগুলোর অর্থায়নের মাধ্যমে ১ লাখ ৪১ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, ১৪৪৭ হিজরি (২০২৫ ও ২০২৬ সাল) চান্দ্রবর্ষে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বেসরকারি খাত ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ২৩৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার মূল্যের ১৫০টি বাণিজ্যিক সমঝোতা ও চুক্তিপত্র স্বাক্ষরে সহায়তা করেছে।
তিনি আরও বলেন, ১ হাজার ৩টি জাতীয় মানদণ্ড অনুমোদন করা হয়েছে। গুণগত মান নিশ্চিত করতে ১ লাখ ৪ হাজারেরও বেশি নির্মাণসামগ্রীর নমুনা এবং ৫ হাজার ২০০টি বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।
খনি কার্যক্রমের বিষয়ে মাওলানা জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ‘১৪৪৭ হিজরি (২০২৫ ও ২০২৬ সাল) চান্দ্রবর্ষে বিভিন্ন প্রদেশের ৩৫০টি খনি প্রকল্পের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে অথবা সেগুলোর লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দাইকুন্দি ও তাখার প্রদেশে মার্বেল ও স্বর্ণ উত্তোলনের বৃহৎ পরিসরের দুটি প্রকল্প এবং ছোট পরিসরের ৮৫টি খনি প্রকল্প দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’
পরিবহন ও বিমান চলাচল খাতের বিষয়ে তিনি বলেন, ১২ হাজার ৮০০টিরও বেশি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এসব ফ্লাইটে ১৫ লাখেরও বেশি যাত্রী পরিবহন করা হয়েছে।
তিনি আরও আরও বলেন, কৃষি, সেচ ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বৃক্ষরোপণ এবং পেস্তা ও আখরোটের বনাঞ্চল গড়ে তোলার কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে।
তিনি বলেন, ‘মুদারাবাভিত্তিক অর্থায়ন তহবিলের মাধ্যমে কৃষি মন্ত্রণালয় বেসরকারি খাত ও প্রাণিসম্পদ খাতে প্রায় ২০০ কোটি আফগানি অর্থায়ন করেছে।’
অর্থ খাতের বিষয়ে জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, শুল্ক প্রক্রিয়া সহজ করা, ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ নিরসন এবং পণ্য চোরাচালান মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: তোলো নিউজ










