সিরিয়ায় ১৪ বছরের যুদ্ধে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ অনুসন্ধানের আশ্বাস দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আহমাদ আশ-শারা।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের কয়েকজন প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা জানান।
আহমাদ আশ-শারা বলেন, যুদ্ধে নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়টি একটি মানবিক দায়িত্ব এবং এটি রাষ্ট্রের ওপর অর্পিত দায়িত্ব। তাই বিষয়টি কোনোভাবেই উপেক্ষা করা হবে না।
তিনি আরও বলেন, সিরিয়ায় যুদ্ধের প্রভাব প্রায় প্রতিটি পরিবারের ওপর পড়েছে। যারা তাদের সন্তানদের পরিণতি জানেন, তাদের কষ্ট কিছুটা হলেও কম। কিন্তু যাদের সন্তানদের ভাগ্য অজানা, তাদের কষ্ট সবচেয়ে বেশি।
নিখোঁজদের সন্ধানে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ
আশ-শারার এই বক্তব্যের সময়ই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ সিরিয়ার উত্থাপিত একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করেছে। এতে ১৯ ডিসেম্বরকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে নিয়োজিত নারীদের সম্মানে আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘে সিরিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ইব্রাহিম আলবি সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বলেন, সিরিয়া এমন একটি অন্ধকার সময় থেকে বেরিয়ে এসেছে, যখন নিখোঁজদের পরিবারের কষ্ট অস্বীকার করা হতো এবং তাদের দুর্ভোগ উপেক্ষিত থাকত। এখন দেশটি নতুন একটি পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।
তিনি বলেন, সিরিয়া এই সংকট স্বচ্ছতার সঙ্গে মোকাবিলা করছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে।
নিখোঁজদের তথ্য সংগ্রহে কর্মসূচি
২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় নিখোঁজ ব্যক্তি বিষয়ক কর্তৃপক্ষ একটি কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দিয়েছে। এর মাধ্যমে নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ এবং তাদের বিষয়ে করা বিভিন্ন অভিযোগ ও প্রতিবেদন একত্র করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সিরিয়ান নেটওয়ার্ক ফর হিউম্যান রাইটসের পরিচালক ফাদেল আবদুল গনি সিরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা সানাকে বলেন, এই কর্মসূচি নিখোঁজদের তথ্য একীভূত করা এবং তাদের ভাগ্য অনুসন্ধানে একটি জাতীয় তথ্যভান্ডার তৈরির পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তিনি জানান, পরিবারগুলো মোবাইল অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে অভিযোগ বা তথ্য জানাতে পারবে। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য নির্দিষ্ট ফোন নম্বর ও কেন্দ্রও থাকবে।
শত শত গণকবরের সন্ধান
জাতিসংঘে সিরিয়ায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্লা কুইন্তানা জানিয়েছিলেন, বিভিন্ন সাক্ষ্য, স্যাটেলাইট ছবি ও উন্মুক্ত উৎসের তথ্য ব্যবহার করে শত শত গণকবরের অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে।
তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ৯০ হাজারের বেশি নথি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সিরিয়ায় নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ৩ লাখের মধ্যে হতে পারে।
কুইন্তানা আরও জানান, তাদের কাছে ৫০০-এর বেশি শিশুর বিষয়ে নথি রয়েছে, যাদের সাবেক নিরাপত্তা কেন্দ্র ও আটককেন্দ্রের মধ্য দিয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। নিখোঁজদের বিষয়ে তথ্য বিনিময় এবং পরিচয় শনাক্তকরণ পরীক্ষা শুরু করার জন্য একটি আইনি কাঠামো তৈরির কাজও চলছে।
সূত্র: আল-জাজিরা











