spot_img
spot_img

গাজ্জা কূটনীতি ও ইসরাইলে বিনিয়োগ নিয়ে সমালোচনার মুখে ট্রাম্পের জামাতা

গাজ্জা যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতায় যুক্ত থাকার একই সময়ে ইসরাইলি সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার হওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ব্যবসায়িক স্বার্থ ও কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কুশনারের মালিকানাধীন বেসরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান অ্যাফিনিটি পার্টনার্স ইসরাইলি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ফিনিক্স ফাইন্যান্সিয়ালের সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার। সিএনএনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ফিনিক্স ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর জন্য সরঞ্জাম সরবরাহকারী অন্তত নয়টি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছে। এসব বিনিয়োগের মোট মূল্য ৪৫ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাফিনিটি পার্টনার্স সরাসরি ওই নয়টি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেনি। তবে ফিনিক্স এসব প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করে মুনাফা করলে অ্যাফিনিটিও তার সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার হিসেবে পরোক্ষভাবে লাভবান হতে পারে।

ফিনিক্সের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ অন্তত ২৬ কোটি ৫১ লাখ ডলার ইসরাইলের অন্যতম প্রধান অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমসে। গত এক বছরে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিষ্ঠানটি শত শত কোটি ডলারের বিভিন্ন চুক্তি পেয়েছে। এর মধ্যে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্রের জন্য প্রায় ২০ কোটি ডলার, ১৫৫ মিলিমিটার কামানের গোলার জন্য ৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার এবং সামরিক ট্যাংক আধুনিকায়নের জন্য ২১ কোটি ডলারের চুক্তি রয়েছে।

২০২৫ সালে এলবিটের মোট আয়ের ৩২ শতাংশ এসেছে ইসরাইল থেকে। একই সময়ে গাজ্জা যুদ্ধ শুরুর পর প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম ১৬৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এলবিট জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তাদের পণ্যের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

ফিনিক্সের আরেকটি বড় বিনিয়োগ রয়েছে নেক্সট ভিশনে। প্রতিষ্ঠানটিতে ফিনিক্সের বিনিয়োগের পরিমাণ ৬ কোটি ৮৩ লাখ ডলার। নেক্সট ভিশন সামরিক ড্রোনের জন্য ক্যামেরা তৈরি করে এবং এলবিট সিস্টেমস ও ইসরাইল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের মতো প্রতিষ্ঠানের কাছে এসব পণ্য বিক্রি করে।

এ ছাড়া ফিনিক্স অন্তত ৪ কোটি ২ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেছে রেশেফ টেকনোলজিসে। প্রতিষ্ঠানটি কামানের গোলার জন্য ইলেকট্রনিক ফিউজ তৈরি করে। রেশেফ জানিয়েছে, গাজ্জা যুদ্ধ শুরুর পর ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তারা ১৬ কোটি ৫০ লাখ ডলারের অর্ডার পেয়েছে।

ফিনিক্সের আরও বিনিয়োগ রয়েছে ইসরাইল শিপইয়ার্ডস, আশোট আশকেলন, বোয়িং ও ক্যাটারপিলারে। ইসরাইল শিপইয়ার্ডস ইসরাইলি নৌবাহিনীর জন্য যুদ্ধজাহাজ তৈরি করে। প্রতিষ্ঠানটিতে ফিনিক্সের বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৫ লাখ ২৪ হাজার ৫২৪ ডলার।

আশোট আশকেলন ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর ট্যাংক ও সাঁজোয়া যানের জন্য গিয়ারবক্স ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ তৈরি করে। এ প্রতিষ্ঠানে ফিনিক্সের বিনিয়োগের মূল্য প্রায় ১ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। বোয়িংয়ে ফিনিক্সের বিনিয়োগ প্রায় ৪১ লাখ ডলার এবং ক্যাটারপিলারে প্রায় ২৬ লাখ ডলার।

সিএনএনের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে অ্যাফিনিটি পার্টনার্স ফিনিক্স ফাইন্যান্সিয়ালে বিনিয়োগ শুরু করে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তারা ফিনিক্সে নিজেদের অংশীদারিত্ব দ্বিগুণ করে এবং সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডারে পরিণত হয়। এরপর গাজ্জা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতায় কুশনারের ভূমিকা আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

চলতি বছরের জুলাইয়ে কুশনারের প্রতিষ্ঠান ফিনিক্সে নিজেদের অংশীদারিত্বের এক-চতুর্থাংশ বিক্রি করে ৩৪ কোটি ডলারের বেশি আয় করে। এতে প্রাথমিক বিনিয়োগের তুলনায় পাঁচ গুণের বেশি মুনাফা হয়েছে। তবে অ্যাফিনিটি পার্টনার্স এখনও ফিনিক্স ফাইন্যান্সিয়ালের সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার।

এদিকে কুশনারের আইনজীবী জানিয়েছেন, ফিনিক্সের কোথায় বিনিয়োগ করা হবে সে বিষয়ে কুশনার সিদ্ধান্ত নেন না। তিনি ফিনিক্সের পরিচালনা পর্ষদেও নেই এবং প্রতিষ্ঠানটিতে কখনো ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের দায়িত্ব পালন করেননি। তবে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুশনার অতীতে ফিনিক্সের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করতেন এবং প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা ও সম্ভাব্য কৌশলগত সুযোগ নিয়ে আলোচনা করতেন। কুশনার কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডে বেশি যুক্ত হওয়ার পর ফিনিক্সের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে তার যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলেও তার আইনজীবী জানিয়েছেন।

ফিনিক্স ফাইন্যান্সিয়াল সিএনএনের প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেয়নি। তবে প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বলেছেন, ফিনিক্স একটি নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান এবং শেয়ারহোল্ডারদের মূল্য মূলত তাদের পরিচালনাগত কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করে। হোয়াইট হাউসও জানিয়েছে, কুশনারের ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার কূটনৈতিক দায়িত্বের কোনো সম্পর্ক নেই।

সূত্র: সিএনএন, ওয়াই-নেট

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ