“আমি সবসময় প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সঙ্গে কথা বলব। আপনারা জানেন, তিনি আমার বন্ধু। আর আমি সবসময় তাকে খুশি রাখব।”
তুরস্কের ওপর সিএএটিএসএ আইনের আওতায় আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে বিলম্বের বিষয়ে জানতে চাইলে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) এ কথা বলেন।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যে রুশ সামরিক সরঞ্জাম কেনার পর থেকে তুরস্ক ও আমেরিকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে প্রতিরক্ষা বিরোধের কারণে তৈরি হওয়া টানাপোড়েন নিরসনে চলমান প্রচেষ্টার বিষয়টি উঠে এসেছে।
জুলাইয়ে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে রজব তাইয়্যেব এরদোগানের সঙ্গে বৈঠকের সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি সিএএটিএসএ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে চান। একইসঙ্গে তিনি আঙ্কারাকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কেনার অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি “অবশ্যই” বিবেচনা করবেন বলেও জানিয়েছিলেন।
ট্রাম্পের এই প্রতিশ্রুতিকে পাঁচ বছর আগে আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার বিষয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থানে সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এস-৪০০ নিয়ে বিরোধ ও এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ
২০১৯ সালে তুরস্ক রাশিয়ার এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর আমেরিকা তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচি থেকে বাদ দেয়। ওয়াশিংটন বলেছিল, এই ব্যবস্থা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে এবং ন্যাটোর ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এর ফলে দুই মিত্র দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা ভেঙে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
২০২০ সালের ডিসেম্বরে এস-৪০০ কেনার কারণে তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প এবং কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ওপর সিএএটিএসএ-এর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আমেরিকা। এসব পদক্ষেপের মধ্যে আমেরিকার রপ্তানি অনুমোদন ও অর্থায়নের ওপর বিধিনিষেধও ছিল। এর ফলে পশ্চিমা প্রতিরক্ষা কাঠামোর মধ্যে থেকে নিজেদের বিমানবাহিনীর সক্ষমতা আধুনিকায়নে আঙ্কারার সমস্যাগুলো আরও জটিল হয়ে ওঠে।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা অবস্থান
তুরস্কের বক্তব্য হলো, আমেরিকার তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র কেনার সুযোগ না পাওয়ার পর জরুরি আকাশ প্রতিরক্ষা চাহিদা পূরণ করতেই তারা রাশিয়ার এই ব্যবস্থা কিনেছিল। এস-৪০০ ও এফ-৩৫ নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগও তারা বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে।
আঙ্কারা এখনও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং এফ-৩৫ কর্মসূচিতে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ কৌশলগত অংশীদারত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য তুরস্ক উভয় বিষয়কেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।
সূত্র : ইয়েনি শাফাক











