গত ৪ মাস ধরে অবরুদ্ধ গাজ্জা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের উপর গণহত্যামূলক যুদ্ধ চালাচ্ছে ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। ফলে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তচ্যুত হয়েছে প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনি। আর এসব বাস্তচ্যুত অসহায়দের আশ্রয় জুটেছে বিভিন্ন তাঁবুতে। আর ঠিক এমন একটি তাঁবুতে ভয়ে ভয়ে সময় কাটছিলো ছোট্ট দুই শিশুর। তাদের ভয় দূর করতে খুবই সাধারণ যন্ত্রপাতি দিয়ে বাতাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে ‘গাজ্জার নিউটন’ উপাধি পেয়েছেন ১৫ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি কিশোর হুসসাম আল আত্তার।
কুদস প্রেসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটিই জানিয়েছেন কিশোর আত্তার।
হুসসাম বলেন, “আমি আমার জমজ ভাতিজাদের দিকে তাকিয়ে দেখলাম তাদের চোখে আতঙ্ক ও ভয়ের স্পষ্ট ছাপ ফুটে উঠেছে। এই অন্ধকারচ্ছন্ন তাঁবুতে তারা নিঃসঙ্গতায় ভুগছিল। সুতরাং আমি ভাবলাম… তাদের একটি ভাল মুহূর্ত উপহার দেই, আর তাই আলোকিত করলাম এই স্থানকে।”
কিশোরের মাতা বলেন, “ছোট্টবেলা থেকেই খুব মেধাবী হুসসাম। হাতের কাছে যা পেতো তা নিয়েই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করত এবং তা দিয়ে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিস তৈরি করত সে। আর তাই পরিবারের কোন ইলেকট্রনিকস পণ্য নষ্ট হলে তার কাছেই সারতে দেওয়া হতো।” তার ইচ্ছা, একজন মহান উদ্ভাবক হবেন হুসসাম, যা তার সম্প্রদায়কে উপকৃত করবে।
তিনি আরো বলেন, “এটা ফিলিস্তিনিদের এমন একটি প্রজন্ম যারা হার মানতে চায় না। তারা এমন একটি প্রজন্ম যারা মৃত্যু ও অন্ধকারের মাঝে বেঁচে থাকার উপায় খুঁজছে।”
হুসসাম বলেন, আমি জীবনকে ভালবাসি। সেই সঙ্গে একজন উদ্ভাবক ও আবিষ্কারক হতে চাই।
প্রসঙ্গত, উত্তর গাজ্জার বেইত লাহিয়া এলাকায় জাবেল মুকাবেল নামে একটি স্কুলের ছাত্র ছিলেন এই মেধাবী কিশোর। গত ৭ অক্টোবর সেখানে ইসরাইলি বর্বরতা শুরু হয়। এতে সেখান থেকে পালিয়ে প্রথমে আল নাসর ও পরবর্তীতে পায়ে হেঁটে খান ইউনিসে আশ্রয় গ্রহণ করে এই কিশোরের পরিবার।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর











