spot_img
spot_img

ইরানের বিবাহ অনুষ্ঠানে হামলায় নিহত ৫; আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট বললেন “তদন্ত চলছে”

দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশে একটি বিবাহ অনুষ্ঠান চলাকালে ভয়াবহ হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং প্রায় ৭০ জন আহত হয়েছেন। ইরান এই হামলার জন্য আমেরিকাকে দায়ী করে ঘটনাটিকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। অন্যদিকে আমেরিকা এখনো সরাসরি হামলার দায় স্বীকার করেনি। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে হরমোজগানের সিরিক কাউন্টির কুহেস্তাক শহরের একটি বাড়িতে বিবাহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে কয়েক ডজন মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান চলাকালে বিস্ফোরণে বাড়িটির ছাদ ও ভেতরের অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, আহত এক ২২ বছর বয়সী নারীর মৃত্যু হওয়ায় নিহতের সংখ্যা পাঁচে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন প্রায় ৭০ জন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

ঘটনার পর ইরানি রেড ক্রিসেন্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাছে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। সংস্থাটির অভিযোগ, বেসামরিক মানুষের একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইও হামলাটিকে নৃশংস বলে নিন্দা জানিয়েছেন। তেহরানের অভিযোগ, আমেরিকার চলমান সামরিক অভিযানে বেসামরিক মানুষও প্রাণ হারাচ্ছেন এবং কুহেস্তাকের ঘটনাটি তারই একটি উদাহরণ।

আমেরিকার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনার তথ্য সম্পর্কে অবগত এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তাদের দাবি, আমেরিকান বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে না।

রয়টার্সকে দুই আমেরিকান কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সেদিন কুহেস্তাক এলাকায় আমেরিকান হামলা হয়েছিল। বিবাহ অনুষ্ঠানস্থল থেকে প্রায় ১৩৫ মিটার দূরের একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ছিল আমেরিকার একটি লক্ষ্যবস্তু।

তবে রয়টার্সের স্বাধীন ভিজ্যুয়াল বিশ্লেষণে ঘটনাটি নিয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। ঘটনাস্থলের যাচাই করা ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে চারজন অস্ত্র বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, বাড়িটির ক্ষয়ক্ষতি পাশের কোনো লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার চেয়ে সরাসরি গোলাবারুদের আঘাতের সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তিনজন বিশেষজ্ঞের মতে, ব্যবহৃত অস্ত্রটি সম্ভবত আমেরিকান ছিল। তবে একজন বিশেষজ্ঞের ধারণা, অস্ত্রটি নির্ধারিত লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে বিবাহ অনুষ্ঠানস্থলে আঘাত করে থাকতে পারে।

এ বিষয়ে আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, “তদন্ত চলছে।” তিনি জানান, আমেরিকা আসলে কী ঘটেছে তা জানতে চায়। একই সঙ্গে তিনি ইরানের সরকারি বর্ণনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং দাবি করেন, আমেরিকান সামরিক বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে না।

ভ্যান্স আরও বলেন, সামরিক বাহিনীর কোনো ভুল হয়ে থাকলে সেই ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

এখন পর্যন্ত আমেরিকা কুহেস্তাকের ওই বাড়িতে তাদের অস্ত্র সরাসরি আঘাত করার দায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। তবে রয়টার্সের স্বাধীন বিশ্লেষণে আমেরিকান অস্ত্রের সরাসরি আঘাতের সম্ভাবনাই জোরালোভাবে উঠে এসেছে।

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যেই এই বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটল। আমেরিকা দাবি করছে, তাদের অভিযানের লক্ষ্য ইরানের সামরিক স্থাপনা, রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। অন্যদিকে ইরান আমেরিকার হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে আমেরিকান সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

সূত্র : রয়টার্স, আল জাজিরা

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ