গাজ্জা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের বাহিনীর বিমান হামলা ও গুলিবর্ষণে রোববার (৪ অক্টোবর) তিন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ধারাবাহিকতার মধ্যেই এসব হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
সর্বশেষ ঘটনায় দক্ষিণ গাজ্জার খান ইউনিস শহরের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর ড্রোন হামলায় ৩৬ বছর বয়সী মুয়াজ জামাল আবু নুসাইরা নিহত হন। তিনি বনি সুহেইলা পৌরসভার একজন কর্মী ছিলেন।
এর আগে রোববার সকালে মধ্য গাজ্জার দেইর আল-বালাহ শহরের দক্ষিণে আল-হাওউজ এলাকার কাছে একটি গাড়িতে দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর ড্রোন হামলায় সাকর আল-কাইসি নামে এক যুবক নিহত হন। শিহাবের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, হামলাটি সরাসরি গাড়িটিকে লক্ষ্য করে চালানো হয়। এতে আরও কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক বিভিন্ন মাত্রায় আহত হন।
এ ছাড়া মধ্য গাজ্জার দেইর আল-বালাহ শহরের দক্ষিণে ওয়াদি আল-সালকা এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের তাঁবুর ভেতরে দখলদার বাহিনীর গুলিতে আহত ৬ বছর বয়সী শিশু সুহা মোহাম্মদ নাসের পরে মারা যায়।
উত্তর গাজ্জার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের আবু রাশেদ পুকুরের কাছে দখলদার বাহিনীর গুলিতে এক ফিলিস্তিনি এবং বেইত লাহিয়ার আল-সালাতিন এলাকায় এক নারী আহত হয়েছেন। গাজ্জা শহরের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আল-জালা সড়কে প্রকৌশলী ইউনিয়নের কার্যালয়ের কাছে ড্রোন হামলায় কয়েকজন আহত হন। হাতিন মসজিদের কাছেও ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় একজন আহত হয়েছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এদিকে গাজ্জা শহর ও উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি গোয়েন্দা বিমান নিচু দিয়ে উড়তে থাকে। একই সময়ে হেলিকপ্টার, সামরিক যান ও কামান থেকে বিভিন্ন এলাকায় গুলিবর্ষণ ও গোলাবর্ষণ করা হয়।
রোববার ভোরে গাজ্জা শহরের পূর্বাঞ্চলে ফিলিস্তিনিদের কয়েকটি বাড়ি বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হয়। একই সময়ে জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের পূর্বাঞ্চল ও গাজ্জা শহরের পূর্বাঞ্চলে হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণ এবং কামানের গোলার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
পরে গাজ্জা শহরের পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মোতায়েন সামরিক যান ও সামরিক ক্রেন থেকেও গুলিবর্ষণ করা হয়। খান ইউনিসের পূর্বাঞ্চল, মাগাজি শরণার্থী শিবিরের পূর্বাঞ্চল এবং হামাদ শহরের পূর্বাঞ্চলেও ইসরাইলি বাহিনীর গোলাবর্ষণ ও গুলিবর্ষণ চলে।
এ ছাড়া খান ইউনিসের মাওয়াসি এলাকায় বীর ১৯ নামের স্থানে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাঁবু লক্ষ্য করে সামরিক যান থেকে গুলিবর্ষণ করা হয়। গাজ্জা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকাতেও দখলদার বাহিনীর গোলাবর্ষণ ও গুলিবর্ষণ অব্যাহত থাকে।
সূত্র : শিহাব নিউজ এজেন্সি











