মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কায় দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলে অতিরিক্ত সেনা ও সামরিক বিমান পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে আমেরিকা।
সোমবার (৫ অক্টোবর) ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়ালার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ইসরাইলজুড়ে প্রায় ৩ হাজার আমেরিকান সেনা মোতায়েন রয়েছে। তারা বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পরিচালনা, পাইলট, সহায়তা দল, রসদ সরবরাহ এবং সামরিক সদর দপ্তরের বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন।
ওয়ালার খবরে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও আমেরিকান সেনা ও সামরিক বিমান ইসরাইলে পৌঁছাবে। আমেরিকান বাহিনীর নিয়মিত সেনা আবর্তনের অংশ হিসেবেও বর্তমানে বিভিন্ন ইউনিটের মোতায়েন ও প্রত্যাহার চলছে।
ইসরাইলের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা ওয়ালাকে জানান, ইসরাইল ও আমেরিকার নির্বাচন ঘিরে প্রতিপক্ষরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তারা বৃহত্তর সংঘাত সৃষ্টি না করে কীভাবে হামলার মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা যায় তা মূল্যায়ন করছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, তারা বোঝে যে এবার ইসরাইলের প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত আক্রমণাত্মক হবে।
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন সংঘাত বা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির আশঙ্কায় ইসরাইল আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সঙ্গে সামরিক সমন্বয় অব্যাহত রেখেছে। ওয়ালার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিস্থিতি মোকাবিলায়ও এ সমন্বয় জোরদার করা হচ্ছে।
এদিকে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের মধ্যেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কূটনৈতিক পথে সমাধানের বিষয়ে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। একই সময়ে আমেরিকা ও ইসরাইলের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।
ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুথি বাহিনীর সঙ্গে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সংঘাতও আঞ্চলিক সমীকরণে নতুন প্রভাব ফেলছে। সাম্প্রতিক সময়ে হুথিরা বাব আল-মান্দেব প্রণালি ও লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং তাইজের দিকে চাপ বাড়িয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরব হুথিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, ওয়ালা, রয়টার্স











