আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধরনের পরাজয়ের পর ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের বিরুদ্ধে মার্কিন ভোটাররা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্টের স্পিকার মুহাম্মদ বাকের গালিবাফ। তিনি জানিয়েছেন, তেহরানও মার্কিন ভোটারদের এই অবস্থানকে সমর্থন করে।
নির্বাচনের ফলাফলের প্রসঙ্গ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ লেখেন, “আমরা এই বার্তাকে সমর্থন করি।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, বাইরের স্বার্থ রক্ষায় ওয়াশিংটন যদি সংঘাতের বিরুদ্ধে জনগণের অবস্থান উপেক্ষা করে, তাহলে দেশটিকে গুরুতর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং জ্বালানি তেলের বাড়তি দাম রিপাবলিকানদের নির্বাচনে খারাপ ফলাফলের পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে স্বীকার করার পর গালিবাফ এসব মন্তব্য করেন।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, নির্বাচনের ফলাফলে ইরানেরও ভূমিকা ছিল। তিনি আরও বলেন, অনেক আমেরিকান তাঁর পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানালেও জ্বালানির বাড়তি দামের কারণে তাৎক্ষণিক আর্থিক চাপ বহন করতে তারা ততটা আগ্রহী ছিলেন না।
সিবিএস নিউজকে দেওয়া পৃথক এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, সংঘাতের অবসান হবে “যখন আমি বলব, এর অবসান হয়েছে।”
ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আলোচনার মাধ্যমে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব না হলে আমেরিকা ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে আবারও বড় পরিসরে সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে।
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, নতুন করে কোনো সংঘাত শুরু হলে তার পরিণতি আরও ব্যাপক হবে। তাঁর পূর্বসূরি ও বাবা আলী খামেনি ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহত হওয়ার সময় মোজতবা খামেনিও গুরুতর আহত হয়েছিলেন বলে খবর প্রকাশিত হয়। এরপর থেকে তাঁকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
ইরান বিষয়ে আমেরিকার নীতিতে পরিবর্তন আসবে, এমন প্রত্যাশাও নাকচ করে দিয়েছেন মোজতবা খামেনি। এ ধরনের প্রত্যাশাকে তিনি গুরুতর ভুল হিসাব বলে উল্লেখ করেছেন।
সূত্র : আরিয়ান নিউজ











