‘টেকসই কৃষি ও পশুপালন, অধিক উৎপাদন, শক্তিশালী অর্থনীতি’ স্লোগানে কাবুলের বাদাম বাগ গবেষণা খামারে শুরু হয়েছে আফগানিস্তানের ৩৫তম কৃষি ও পশুপালন প্রদর্শনী। দেশীয় পণ্যের প্রচার, কৃষক ও পশুপালনকারীদের সহায়তা এবং আফগান পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
কৃষি, সেচ ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশীয় পণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি কৃষক ও পশুপালনকারীদের সহায়তা এবং আফগান পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
প্রদর্শনী উদ্বোধন উপলক্ষে কৃষি, সেচ ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মাওলানা আতাউল্লাহ ওমারি বলেন, পানি, মাটি, অনুকূল জলবায়ু ও মানবসম্পদ আফগানিস্তানের সবচেয়ে বড় সম্পদগুলোর অন্যতম। এসব সম্পদের যথাযথ ব্যবহার দেশকে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে এগিয়ে নিতে পারে।
কৃষি ও পশুপালনজাত পণ্যের মান নির্ধারণ এবং প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক পদ্ধতি চালু করতে কৃষি মন্ত্রণালয় কাজ করছে। অর্জনগুলো তুলে ধরা, সম্ভাবনাগুলো চিহ্নিত করা এবং বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও পশুপালনকারীদের মধ্যে যোগাযোগ গড়ে তোলারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ এই প্রদর্শনী।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বার্তায় দারিদ্র্য হ্রাস ও দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে কৃষি ও পশুপালনকে গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার, উন্নতমানের বীজ বিতরণ, ফসলের পোকামাকড় ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং পণ্যের গুণগত মান উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বার্তায় আরও বলা হয়, দেশীয় পণ্য প্রদর্শন, সেগুলোর প্রচার এবং বাজারজাত করার ক্ষেত্রে এই প্রদর্শনী গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করবে।
কৃষি ও পশুপালন চেম্বার জানিয়েছে, দেশের বিদ্যমান সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে পারলে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি রপ্তানিও সম্প্রসারণ করা সম্ভব।
আফগানিস্তান কৃষি ও পশুপালন চেম্বারের প্রধান খান মোহাম্মদ ফ্রোতান বলেন, “কৃষি ও পশুপালনের ক্ষেত্রে আফগানিস্তানের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে দেশটি আমদানিনির্ভর রাষ্ট্র থেকে রপ্তানিকারক রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারবে।”
প্রদর্শনীতে কাবুলে ইরানি দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান আলিরেজা বিগদেলিও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি কৃষি খাতে কাবুল ও তেহরানের মধ্যে সহযোগিতার বিষয়ে কথা বলেন।
তিনি বলেন, আপনারা যা-ই উৎপাদন করুন না কেন, আমাদের প্রয়োজন হলে আমরা তা কিনে নেব।
প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া কয়েকজন উদ্যোক্তা নিজেদের পণ্য তুলে ধরার পাশাপাশি দেশীয় পণ্য বিক্রির জন্য উপযুক্ত বাজার খুঁজে বের করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
৪ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর (১৩ থেকে ১৬ আকরাব) পর্যন্ত চার দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীতে মোট ২৬৩টি স্টল রয়েছে। এ সময় দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শনী উন্মুক্ত থাকবে। পণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি উৎপাদক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ গড়ে তোলা এবং দেশীয় পণ্যের প্রচারের সুযোগ তৈরি হয়েছে এ আয়োজনের মাধ্যমে।
সূত্র : টেলো নিউজ











