বৃহস্পতিবার | ৮ জানুয়ারি | ২০২৬
spot_img

ভারতে শারিরীক নির্যাতনে দলিত ছাত্রীর মৃত্যু

ভারতে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরে দলিত বা নিম্ন বর্ণের এক হিন্দু ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার (৪ জানুয়ারি) দলিত অধিকার বিষয়ক সংগঠনগুলো এর জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে দায়ী করে একটি বিবৃতি দেয়।

বিবৃতিতে দলিত আদিবাসী শক্তি অধিকার মঞ্চ ও মহিলা সম্মিলিত মহিলা কামকাজি মঞ্চ সহ দলিত অধিকার সংগঠনগুলো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায়। এর জন্য হিমাচল প্রদেশের ধর্মশালা সরকারি ডিগ্রি কলেজ কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে দায়ী করে।

তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘক্ষণ র‍্যাগিং, যৌন হয়রানি এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ১৯ বছর বয়সী এই দলিত ছাত্রীর মৃত্যু হয়।

তারা আরো অভিযোগ করেন যে, এটি কলেজ ও রাজ্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বর্ণ ও লিঙ্গ-ভিত্তিক প্রাতিষ্ঠানিক সহিংসতার একটি গুরুতর ঘটনা। কলেজ ও রাজ্য কর্তৃপক্ষ বর্ণবাদী এসব সহিংসতাকে অবহেলার মাধ্যমে প্রশ্রয় দিয়ে থাকে।

সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, ছাত্রীর বাবা থানায় এবিষয়ে একটি মামলা দায়ের করেন, যেখানে হর্ষিতা, আকৃতি ও কমলিকা নামক তিন সিনিয়র ছাত্রীর বিরুদ্ধে র‍্যাগিং, ভয় দেখানো এবং অপমানের অভিযোগ এবং অধ্যাপক অশোক কুমারের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়।

অধিকার গোষ্ঠীগুলোর দাবীতে ও ছাত্রীর বাবার মামলায় যেসব নৃশংসতার বর্ণনা এসেছে, তা তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি (নৃশংসতা প্রতিরোধ) আইন-১৯৮৯ লঙ্ঘন করে। পাশাপাশি ভারতীয় ন্যায় সংহিতার অধীনে যৌন হয়রানি, আক্রমণ এবং ভয় দেখানোর বিধানও লঙ্ঘন করে।

তারা হিমাচল প্রদেশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (র‍্যাগিং নিষিদ্ধ) আইন-২০০৯, কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের যৌন হয়রানি আইন-২০১৩ এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা আইন-২০১৭ লঙ্ঘনের কথাও উল্লেখ করেছেন। কারণ বারবার হাসপাতালে ভর্তি এবং কষ্টে ভুগার পরও প্রতিষ্ঠানটি ওই তফসিলি বা দলিত ছাত্রীটির সুরক্ষা ও আইনি পরামর্শ প্রদানে ব্যর্থ হয়েছে।

ডিএএসএএম এসসি/এসটি আইনের অধীনে গোষ্ঠীগুলো কর্তব্যে অবহেলার জন্য কলেজ প্রশাসনকে দায়ী করে। অভিযুক্তদের অবিলম্বে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তার, অধ্যাপকের চাকরিচ্যুতি, অপরাধী শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার, অধ্যক্ষ ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ভুক্তভোগীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ সহ পরিবার আইনে সুরক্ষার দাবী জানায়।

দলিত অধিকার গোষ্ঠীগুলো এই ঘটনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও জাতীয় মহিলা কমিশন কর্তৃক স্বাধীন তদন্তেরও আহবান জানায়। সতর্ক করে বলে যে, এধরনের সহিংসতা দলিত মহিলাদের উচ্চশিক্ষা থেকে বিরত রাখে, যা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হতে পারে না। বরং এটি পরিকল্পিত এজেন্ডাকে প্রতিফলিত করে।

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ