আমেরিকার মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে সিনেট সদস্য নির্বাচনের জন্য ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাইমারিতে মিসরীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন চিকিৎসক আবদুল আল-সায়েদের বিজয় দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলি গণমাধ্যমগুলো এই ফলাফলকে ইসরাইলপন্থী মহলের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
বুধবার ৫ আগস্ট ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, আল-সায়েদ প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হ্যালি স্টিভেনসকে পরাজিত করেছেন। সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সবচেয়ে সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত স্টিভেনস ইসরাইলপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠীর কাছ থেকে কয়েক কোটি ডলারের আর্থিক সহায়তা পেয়েছিলেন।
দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের চ্যানেল ১৪ বলেছে, আল-সায়েদের বিজয়ের মধ্য দিয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির ‘কট্টর প্রগতিশীল শাখা’ গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে। চ্যানেলটি উল্লেখ করেছে, নির্বাচনী প্রচারণায় আল-সায়েদ দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলকে দেওয়া আমেরিকার সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরেছিলেন।
চ্যানেলটির মতে, এই ফলাফল ভবিষ্যতে ডেমোক্রেটিক পার্টির গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে ২০২৮ সালের আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে দলটির দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলবিরোধী সমালোচক শাখার ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে আরও বিস্তৃত বিতর্ক তৈরি হতে পারে।
দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল হায়োম পত্রিকা আল-সায়েদের বিজয়কে প্রগতিশীল শাখার জন্য ‘বড় বিজয়’ এবং আমেরিকান ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির (এআইপ্যাক) জন্য ‘চরম আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
পত্রিকাটি জানিয়েছে, আল-সায়েদকে পরাজিত করতে স্টিভেনসের পক্ষে এআইপ্যাকের রাজনৈতিক শাখা ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্ট তিন কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ ব্যয় করেছে।
অন্যদিকে দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের প্রভাবশালী দৈনিক ইয়েদিওত আহরোনোত আল-সায়েদকে ‘মুসলিম ওবামা’ বলে আখ্যায়িত করেছে। পত্রিকাটি বলেছে, স্টিভেনসের সঙ্গে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্থানীয় পর্যায়ের হলেও আসন্ন নির্বাচন, বিশেষ করে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটিকে ডেমোক্রেটিক পার্টির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা যাচাইয়ের একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছিল।
দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কানও বলেছে, নির্বাচনের ফলাফল দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলবিষয়ক নীতি নিয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির মধ্যপন্থী ও প্রগতিশীল শাখার মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছে। সম্প্রচারমাধ্যমটির মতে, আগামী নভেম্বরে আল-সায়েদ সিনেটে নির্বাচিত হলে দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে সিনেটের অবস্থান প্রভাবিত হতে পারে।
আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আল-সায়েদ সাবেক রিপাবলিকান প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন। রিপাবলিকান প্রাইমারিতে রজার্সের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না।
সিনেটর গ্যারি পিটার্স অবসর নেওয়ায় আসনটি শূন্য হয়েছে। আমেরিকার সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে ডেমোক্রেটিক পার্টির জন্য আসনটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হলে আল-সায়েদ আমেরিকার সিনেটে দায়িত্ব পালনকারী প্রথম মুসলিম হবেন।
৪১ বছর বয়সী আবদুল আল-সায়েদ মিশিগানের রচেস্টার হিলসে মিসরীয় অভিবাসী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেডিকেল ডিগ্রি এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।
২০১৮ সালে তিনি মিশিগানের গভর্নর পদে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাইমারিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে গ্রেচেন হুইটমারের কাছে পরাজিত হন। পরবর্তী সময়ে তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল শাখার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে উঠে আসেন।










