গাজ্জা উপত্যকার স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসা অবকাঠামো ও বেসামরিক স্থাপনায় দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের হামলার ‘কঠোরতম ভাষায়’ নিন্দা জানিয়েছে আটটি মুসলিম দেশ। দেশগুলো বলেছে, এসব হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং গাজ্জায় শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে তুরস্ক, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এ নিন্দা জানান।
বিবৃতিতে গাজ্জায় দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের অব্যাহত লঙ্ঘন এবং এসব হামলায় বেসামরিক মানুষের হতাহতের তীব্র নিন্দা জানানো হয়। হতাহতদের মধ্যে বিশেষ করে নারী ও শিশুরা রয়েছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেছেন, এসব হামলা আন্তর্জাতিক আইন এবং ‘গাজ্জা সংঘাত অবসানের সমন্বিত পরিকল্পনার’ সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তারা সতর্ক করে বলেন, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলো পরিকল্পনাটির রূপরেখা গ্রহণ করেছে বলে ঘোষণা দেওয়ার পর এর দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের যে প্রচেষ্টা চলছে, এসব হামলা তা দুর্বল করে দিচ্ছে।
তারা জোর দিয়ে বলেন, বেসামরিক মানুষ ও চিকিৎসা স্থাপনাগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া এবং গাজ্জাজুড়ে নিরাপদ ও বাধাহীনভাবে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে বাধ্যতামূলক আইনি দায়িত্ব।
যৌথ বিবৃতিতে গাজ্জার পরিস্থিতির সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা, অবৈধ ইসরাইলি বসতির সম্প্রসারণ এবং অধিকৃত পূর্ব জেরুসালেমের বিদ্যমান অবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে নেওয়া একতরফা পদক্ষেপগুলোর যোগসূত্র তুলে ধরা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, “সমষ্টিগতভাবে এসব কর্মকাণ্ড শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে একটি বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়া, দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ভিত্তি দুর্বল করা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ অধিকারকে প্রান্তিক করার লক্ষ্যে পরিচালিত একটি পদ্ধতিগত নীতি। এটি আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলোর প্রকাশ্য লঙ্ঘন।”
আট দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি নিজেদের আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
তারা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনসহ আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে নিজের বাধ্যবাধকতা এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাব দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল যেন মেনে চলে, তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি গুরুতর লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনারও দাবি জানান তারা।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ বেসামরিক মানুষকে সুরক্ষা দিতে এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতি অর্জনে সহায়তা করবে।
তারা অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের সঙ্গে সংযুক্ত করার যেকোনো প্রচেষ্টা এবং ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার চেষ্টাও প্রত্যাখ্যান করেন।










