আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক হিজাব পরিহিত নারী জয়ী হয়েছেন। চার নারী অঙ্গরাজ্য সিনেটর এবং একজন কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দেশটির নির্বাচনি ইতিহাসে এমন ঘটনা নজিরবিহীন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার পর আমেরিকায় ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য ও হুমকি বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে হিজাব পরিহিত নারীদের এ জয় বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
নির্বাচিতদের মধ্যে রয়েছেন কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর এবং নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিনেট সদস্য আবের কাওয়াস, কলোরাডোর ইমান জোদেহ, জর্জিয়ার রুয়া রোমান ও ইলিনয়ের সিনেট সদস্য নাবিলা সৈয়দ।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় গণমাধ্যম, রিপাবলিকান নেতাদের পাশাপাশি অনলাইনেও তাঁদের বিদ্রূপের শিকার হতে হয়েছে। গত সপ্তাহে মুসলিম পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল (এমপ্যাক) যুক্তরাষ্ট্রে উগ্র ডানপন্থি ও ইসলামবিদ্বেষী উসকানিদাতাদের তৎপরতা বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে। সংস্থাটির আশঙ্কা, এ ধরনের তৎপরতা মুসলিম আমেরিকানদের মধ্যে ভীতি তৈরি করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে হিজাব পরিহিত নারীদের নির্বাচিত পদে জয় তাঁদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় সরাসরি ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি করেছে।
আমেরিকার রাজনীতিতে বাড়ছে মুসলিমদের অংশগ্রহণ
আমেরিকার রাজনীতিতে মুসলিমদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির বিষয়টিও এবারের নির্বাচনে বিশেষভাবে সামনে এসেছে। কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের (সিএআইআর) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নির্বাচনে স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ১৬০ জনের বেশি মুসলিম প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ২০২২ সালের নির্বাচনে এ সংখ্যা ছিল ১৪৫।
অর্থাৎ, আগের নির্বাচনের তুলনায় এবার মুসলিম প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। শুধু প্রার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধিই নয়, গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাঁদের জয়ও মার্কিন রাজনীতিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব বিস্তারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্র: ডন, দ্য নিউ আরব, রিলিজিয়ন নিউজ সার্ভিস।











