বুধবার | ১৪ জানুয়ারি | ২০২৬
spot_img

তুরস্কে ঢুকে হামাস নেতাদের হত্যার ঘোষণা ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থার: কড়া হুশিয়ারি এরদোগানের

গাজ্জা উপত্যকায় গণহত্যা চালাতে গিয়ে ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের প্রতিরোধে রীতিমতো রাজনৈতিক ও সামরিক সংকটের মুখে পড়েছে ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল। আর তাই এবার লেবানন, তুরস্ক ও কাতারের মতো দেশগুলোতে অবস্থানরত হামাস নেতাদের হত্যার পথ বেছে নিয়েছে তেল আবিব।

তবে হামাস নেতাদের রক্ষায় ইসরাইলকে কড়া হুশিয়ারি প্রদান করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তুরস্কের একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, “তুরস্কের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে হামাসের কোন একজন নেতাকে গুপ্তহত্যা করলে তার জন্য কঠোর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে ইসরাইলকে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান।”

এর ঠিক একদিন আগে, যেসব হামাস নেতা প্রবাসে অবস্থান করছেন তাদেরকে হত্যার ঘোষণা দিয়ে একটি অডিও বার্তা প্রদান করে ইসরাইলের কুখ্যাত অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা ‘শিন বেত।’

গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান রোনেন বার বলেন, “হামাস নেতাদের হত্যা করতে কয়েক বছর লাগলেও তা করতে বদ্ধপরিকর তেল আবিব।”

প্রসঙ্গত, দখলদার ইসরাইলের বিরুদ্ধে বহির্বিশ্বের সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে কাজ করার জন্য বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই বিদেশে অবস্থান করছেন হামাসের নেতারা। হামাসের প্রধান ইসমাইল হানিয়াহের কার্যালয় কাতারে অবস্থিত। এছাড়াও তুরস্কে হামাসের অফিস রয়েছে।

এদিকে, ইসরাইলের এমন সিদ্ধান্তে মোটেও ভয় পাচ্ছেনা হামাস নেতারা বলে জানিয়ে দিয়েছেন ইসমাইল হানিয়ার উপদেষ্টা তাহের আল-নুনু।

তিনি বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে হামাসের বিরত্বপূর্ণ লড়াই ও কঠোর পদক্ষেপের কারণে তীব্র সংকটের মুখে পড়েছে দখলদার ইসরাইল।

তিনি আরো বলেন, বিশ্বব্যাপী হামাস নেতাদের হত্যার এই হুমকি আন্তর্জাতিক আইন লংঘন করে।

অন্যদিকে, গত অক্টোবরের শেষের দিকে হামাস নেতাদের অবস্থান সম্পর্কে দুটি নথিপত্র প্রকাশ করে মিডিল ইস্ট আই। যেখানে বলা হয়, গত ৭ই অক্টোবর ইসরাইলে আল আকসা ফ্লাড চলাকালে তুরস্কে অবস্থান করছিলেন হামাসের শীর্ষ নেতারা। তবে এই আক্রমণের পর তাদেরকে অন্যত্র চলে যেতে বলা হয়।

দ্বিতীয় নথিপত্রে বলা হয়, হামাসের নেতারা স্থায়ীভাবে তুরস্কে বসবাস করছিলেন না বরং বিভিন্ন আলোচনা সভা ও বক্তব্যের জন্য সেখানে অবস্থান করছিলেন।

উল্লেখ্য, গাজ্জায় হামাস ও ইসরাইলের চলমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক মাস আগেও উষ্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রচেষ্টা করছিল তেল আবিব ও আঙ্কারা। তবে গাজ্জায় ইসরাইলি বাহিনীর বর্বরতা ও গণহত্যার ফলে এ সম্পর্ক থেকে সরে আসেন এরদোগান। শুধু তাই নয়, গাজ্জায় গণহত্যার জন্য দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘কসাই’ বলে অভিহিত করে আন্তর্জাতিক আদালতে তার শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। সেই সঙ্গে এই অঞ্চলে ইসরাইলের দখলদার নীতি সম্প্রসারণের বিষয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন এরদোগান।

সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল, মিডল ইস্ট আই ও পার্স টুডে।

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ