শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ভারতে আশ্রয় দেওয়া, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের প্রভাব বিস্তার, ক্রীড়া ও নির্বাচন ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে ‘ভারত আউট’ এর ডাক দিয়েছে জুলাই ঐক্য।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত সমাবেশ থেকে ‘র্যালি ফর বাংলাদেশ’ কর্মসূচিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। সমাবেশ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শহীদ ওসমান হাদি চত্বর পর্যন্ত একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে যোগ দিয়ে ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার লোক দেখানো সহানুভূতি দেখালেও এখনও শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, “আমরা দেশীয় তদন্ত সংস্থার ওপর আস্থা রাখছি না। আন্তর্জাতিক তদন্ত ছাড়া ন্যায়বিচার এই ঘটনায় সম্ভব নয়।”
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে জড়িত গণহত্যাকারী ও শহীদ ওসমান হাদির খুনিদের ভারত আশ্রয় দিচ্ছে। একইসঙ্গে গত চারটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ভারতের নগ্ন হস্তক্ষেপ চলছে।
বক্তারা বলেন, গত ৫৪ বছর ধরে ভারত সরাসরি যুদ্ধ নয়, বরং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশকে দুর্বল করার চেষ্টা করে আসছে। পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করা, সীমান্তে নদীর বাঁধ খুলে বন্যা সৃষ্টি এবং পানিবণ্টনে চুক্তি না করা, এসব তুলে ধরে তারা বলেন, ভারত কখনোই প্রকৃত বন্ধু হিসেবে আচরণ করেনি।
সমাবেশ থেকে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ‘ইন্ডিয়া বয়কট’-এর ডাক দেওয়া হয় এবং দেশবাসীকে এই আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
তাদের অভিযোগ, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভারতীয় গভীর চক্রান্ত চলছে। নির্বাচন ব্যবস্থাকে ‘সিলেকশন’ প্রক্রিয়া উল্লেখ করে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে ক্ষমতায় আনার আয়োজন করা হচ্ছে।
সমাবেশ থেকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার এবং সৎ ও যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচনের আহ্বান জানানো হয়।











