মসজিদে আকসাকে তুরস্কের চূড়ান্ত লক্ষ্য বলে দাবী করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ও মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব রজব তাইয়েব এরদোগান।
এক সম্মিলিত ইফতার অনুষ্ঠান শেষে তিনি মসজিদে আকসাকে তুরস্কের চূড়ান্ত গন্তব্য বলে দাবী করেন তিনি এবং মসজিদে আকসার পবিত্রতা লঙ্ঘন করে সহিংসতা চালানোয় তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের কঠোর সমালোচনা করেন।
এরদোগান বলেন, আমি প্রথমত পবিত্র আকসায় আহতদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। আর মর্যাদা ও পবিত্রতা লঙ্ঘন করে ইহুদিবাদীদের সন্ত্রাসীদের হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি।
তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের জনগণ একা নয়। ইহুদিবাদী ইসরাইলকে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। আক্রমণের মুখে তুরস্ক কখনোই চুপ করে বসে থাকবে না।
এসময় তিনি অত্যন্ত ক্ষোভ নিয়ে ইসরাইলের প্রতি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, মসজিদে আকসায় পৌঁছে হারাম আল শরীফে ইহুদিবাদী নিষেধাজ্ঞা ধূলিস্যাৎ করে দেওয়া আমাদের রেড লাইন (চূড়ান্ত লক্ষ্য)।
জানা যায়, বুধবার (৫ এপ্রিল) ভোর রাতে ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল প্রথমে আকসা প্রাঙ্গণে তাণ্ডব চালাতে শুরু করলে ফিলিস্তিনিরা আকসার পবিত্র প্রাচীন এরিয়ায় চলে যায় এবং আত্মরক্ষার্থে মসজিদে কিবলায় আশ্রয়গ্রহণ করে।
এসময় ঐতিহাসিক রীতি লঙ্ঘন করে সর্বজনবিদিত পবিত্র স্থানের পবিত্রতা ও মর্যাদার তোয়াক্কা না করে ইহুদিবাদী সন্ত্রাসী সেনারা প্রথমে মসজিদের ছাদে উঠে প্রাচীন ও ঐতিহাসিক মসজিদটির ভিতরে ঢুকার চেষ্টা করে।
মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদি সকলের জন্যই পবিত্র স্থানটিতে তারা সাউন্ড গ্রেনেড সহ আরো বিভিন্ন ধরণের হাত বোমা নিক্ষেপ করতে থাকে।
বিভিন্ন সহিংস উপায় অবলম্বন করে ভেতরের ফিলিস্তিনি মুসলিমদের বের করতে না পেরে পরবর্তীতে দরজা ভাঙ্গার চেষ্টা করে। এতেও ব্যর্থ হলে মসজিদের জানালা ভেঙ্গে ঢুকে পড়ে ইহুদিবাদী বাহিনীরা এবং প্রায় ৪০০ জনের মতো মুসল্লীকে মসজিদ থেকে আটক করে নিয়ে যায়।
বিশ্বের সকল ধর্মের পবিত্র ও মর্যাদাবান স্থানে এমন সন্ত্রাসী হামলা চালানোয় বিশ্বের প্রায় সকল দেশের নিন্দার মুখে পড়তে হয়েছে ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের এই অবৈধ রাষ্ট্রটিকে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জার্মানি, ফ্রান্স, তুরস্ক, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া সহ বিশ্বের প্রায় সকল দেশ ও বড় বড় সংস্থাগুলো নিন্দা জানিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে ফিলিস্তিন দখলকারী অবৈধ রাষ্ট্রটির।
সূত্র: আনাদোলু











