ভারতের হরিয়ানায় মসজিদ জ্বালিয়ে দেয়া ও ইমাম হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান।
আজ সোমবার (৭ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান বলেন, আমরা ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিম নিধনের সংবাদ বারবার মিডিয়ার শিরোনাম হতে দেখছি। তারা কারো তোয়াক্কা করছে না। ভারতের মোদী সরকারের ঔদ্ধত্যপূর্ণ নেতিবাচক আচরণ একদিন ভারতকে টুকরো টুকরো করে দিবে। তিনি ভারতীয় মুসলমানদের জান-মাল ও তাদের অধিকার সংরক্ষণে জাতিসংঘ, ওআইসি সহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
হেফাজত মহাসচিব বলেন, কয়েকমাস আগে জুনায়েদ ও নাসির নামে দুইজন মুসলিম যুবককে তাদের গাড়ির ভিতর জীবন্ত পুড়িয়ে মেরেছিল স্থানীয় উগ্রবাদী হিন্দুরা। সম্প্রতি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) একটি শোভাযাত্রা চলাকালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় মসজিদের ইমামসহ পাঁচজনকে হত্যা করা হয়েছে এবং আগুন দিয়ে আঞ্জুমান জামে মসজিদটি জ্বালিয়ে দিয়েছে। গেরুয়া পতাকা ধারী উগ্রপন্থীরা মুসলমানদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে লুটপাট করেছে। দিল্লির অদূরে মুসলিম অধ্যুষিত নূহ ও গুরগাঁও এলাকায় মূলত প্রশাসনের প্রকাশ্য মদদেই সে দেশের সংখ্যালঘু মুসলমানদের উপর জুলুম- নির্যাতন চলছে। ট্রেনে আগুন দিয়ে মুসলমানদের হত্যা করা হচ্ছে। নিজেরা চার্চ ভাংচুর করে মুসলমানদের উপর দোষ চাপানো হচ্ছে। মুসলিম যুবকদের জোর করে হিন্দু দেবতাদের নামে জয়শ্রীরাম শ্লোগান দিতে বাধ্য করা হচ্ছে।
হেফাজত মহাসচিব আরও বলেন, মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর ভারতের এধরণের রাষ্ট্রীয় জুলুম বিশ্বের শান্তিকামী মানুষ বরদাস্ত করতে পারে না। মূলতঃ ভারতকে মুসলিম শূন্য করার জন্যই মোদি সরকার বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিম নিধন চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব নেতৃবৃন্দের আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ ছাড়া ভারত সরকার মুসলমানদের উপর অত্যাচার জুলুম বন্ধ করবে না।
বাংলাদেশ সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়ে হেফাজত মহাসচিব বলেন, প্রতিবেশী মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারকে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে হবে। ইমাম হত্যা ও মসজিদ জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানোর পাশাপাশি কুটনৈতিকভাবেও উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য সরকারের প্রতি তিনি জোরালো দাবি জানান।











