দখলকৃত পশ্চিম তীরে এক দখলদার অবৈধ ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারী ছুরিকাঘাতে আহত হওয়ার পর ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) বিরুদ্ধে ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের’ হুমকি দিয়েছেন ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইসরাইলি আর্মি রেডিও জানায়, ছুরিকাঘাতের ঘটনার পরপরই সন্দেহভাজন এক ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরাইলি বাহিনী। ওই হামলায় ১৯ বছর বয়সী এক ইসরাইলি অবৈধ বসতিস্থাপনকারী গুরুতর আহত হন। নাবলুস গভর্নরেটের উসারিন গ্রামের কাছে একটি অবৈধ বসতিতে এ ঘটনা ঘটে।
সন্দেহভাজন ব্যক্তি একটি গাড়িতে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। এরপর দখলদার ইসরাইলি সেনারা তাকে ধরতে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। পরে ইসরাইলি বাহিনী দাবি করে, ওই ব্যক্তি সেনাদের ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করেছিলেন। এ অভিযোগে তাকে হত্যা করা হয়।
আল-জাজিরার সংবাদদাতা লাইথ জার জানান, ঘটনার পর ফিলিস্তিনের বেশ কয়েকটি গ্রাম অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল।
ইসরাইলের চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, ওই অবৈধ বসতিস্থাপনকারী শরীরে বেশ কয়েকটি ছুরিকাঘাতের আঘাত পেয়েছেন। তাকে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তার অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়েছে।
ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় দখলদার ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্রই সরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেন, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো যদি ইসরাইলি বাহিনী ও ইহুদি বসতিগুলোর বিরুদ্ধে ৭ অক্টোবরের আদলে কোনো হামলা শুরু করে, অথবা এমন হামলা শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়, তাহলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তিনি সামরিক বাহিনীকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরুর প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিবেন।
কাটজ আরও হুঁশিয়ারি আরও বলেন, পশ্চিম তীরে নতুন করে দীর্ঘস্থায়ী ইন্তিফাদা শুরু হতে দেওয়া হবে না। এর পরিবর্তে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা কাঠামোর বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি অবৈধ বসতিস্থাপনকারীদের ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক হামলা ও সহিংসতার মধ্যেই ছুরিকাঘাতের এ ঘটনা ঘটল। সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষ সতর্ক করে আসছে।
এর আগে ইসরাইলি সামরিক কর্মকর্তারাও সতর্ক করে বলেছিলেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা আরও ব্যাপক অস্থিরতার দিকে নিয়ে যেতে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা












