ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারলে সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আমেরিকা। পাশাপাশি তথ্যদাতাদের প্রয়োজনে অন্যত্র স্থানান্তরের ব্যবস্থাও করার কথা জানিয়েছে দেশটি।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) আমেরিকার পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির বরাতে এ ঘোষণা প্রকাশ করে দেশটির কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড। এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনা, সরঞ্জাম, বিজ্ঞানীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। এসব স্থাপনা, সরঞ্জাম বা ব্যক্তির স্থানান্তর সম্পর্কেও তথ্য দিতে বলা হয়েছে।
আমেরিকার পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিতে পারলে সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে তথ্যদাতাদের অন্যত্র স্থানান্তরের সুযোগও রাখা হয়েছে।
বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করে বলা হয়, ইরান ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধতার ইউরেনিয়াম উৎপাদনের জন্য এটি প্রযুক্তিগতভাবে খুব কাছাকাছি একটি পর্যায়। পারমাণবিক অস্ত্রধারী নয়, এমন দেশগুলোর মধ্যে ইরানই একমাত্র দেশ, যারা এত উচ্চ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই ইউরেনিয়াম আরও সমৃদ্ধ করা হলে তা দিয়ে কয়েকটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির মতো উপাদান পাওয়া সম্ভব।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা পালনে ইরানি সরকারের ব্যর্থতার কারণে দেশটির ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ব্যবহৃত সেন্ট্রিফিউজের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামের উৎপাদন ও মজুত সম্পর্কে সংস্থাটির ধারাবাহিক নজরদারি ব্যাহত হয়েছে। ফলে এসব সরঞ্জামের উৎপাদন ও সংগ্রহের বিষয়ে সংস্থাটি আগের মতো নিশ্চিত তথ্য পাচ্ছে না।
সূত্র: আমেরিকার পররাষ্ট্র দপ্তর











