আওয়ামী লীগ কথা রাখেনি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।
তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ আমাদের আশ্বস্ত করেছিল যে, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। তাদের ওপর সেই আস্থা রেখেই আমরা নির্বাচনে গিয়েছি, কিন্তু তারা তাদের কথা রাখেনি। এরকম করলে তো যুদ্ধ ছাড়া অন্যকিছু দিয়ে সমাধান সম্ভব নয়। সার্বিকভাবে দেশের নির্বাচন ভালো হয়নি। আমরা এটি আশঙ্কা করেছিলাম। সরকার যেখানে চেয়েছে নির্বাচন নিরপেক্ষ করেছে, আবার যেখানে চেয়েছে তাদের প্রার্থীকে জিতিয়েছে। তাই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। এ কারণে নির্বাচনে কেউ আসতেও চায়নি। আন্তর্জাতিকভাবে এ নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পাবে কি না তা আমি বলতে পারছি না। তবে আমার মূল্যায়নে সরকারের নিয়ন্ত্রিত এ নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার কথা না।
সোমবার (৮ জানুয়ারি) সকালে রংপুর নগরীর সেনপাড়াস্থ স্কাই ভিউ বাসভবন প্রাঙ্গনে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
জিএম কাদের বলেন, আমরা এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করছি না। কারণ এটি করার মতো আমাদের অবস্থা নেই। নির্বাচনে অংশ নেওয়া ভুল হয়েছি কি সঠিক হয়েছে তা এখনই মূল্যায়ন করা যাবে না। সামনের দিনগুলোতে দেখে তারপর মূল্যায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নিরপেক্ষ প্রশাসন, অস্ত্র-পেশিশক্তি ও অর্থের প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু তারা সেই কথা রাখেনি। নির্বাচনের রাত থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের হয়রানি-হামলা করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন ১০টা থেকে ২টার মধ্যে সকল ভোটকেন্দ্র দখল করে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের এজেন্টকে ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে নৌকায় সিল মেরেছে। এক্ষেত্রে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন নীরব ছিল। আমরা অসহায় হয়ে পড়েছিলাম।
তিনি আরও বলেন, আমরা সংসদে যাব না এমন সিদ্ধান্ত নেইনি। নির্বাচন বর্জন করলে আমাদের দলের সমস্যা সৃষ্টি হতো, দলীয় রাজনীতি রক্ষায় আঘাত আসতে পারে এমনটি পরিস্থিতি ছিল। তাই তাদের বিশ্বাস করে নির্বাচনে এসেছি। নির্বাচনে বিশ্বাস কিংবা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আলাপ-আলোচনায় আসতে হয়। এছাড়া অন্য প্রক্রিয়া হলো যুদ্ধ করা, আমরা তো যুদ্ধের মাধ্যমে সমাধান করতে পারবো না। বিশ্বাস করে এসেছি কিন্তু তারা বিশ্বাস রক্ষা করেনি। তাই আগামীতে তাদের অন্য কেউ বিশ্বাস করবে না। তাদের গ্রহণযোগ্যতার বিপক্ষে কাজ করবে।











