বৃহস্পতিবার | ১৫ জানুয়ারি | ২০২৬
spot_img

নির্বাচনের আগে গণ পদত্যাগের সম্মুখীন হতে যাচ্ছে তুরস্কের প্রধান বিরোধীদল সিএইচপি!

নির্বাচনের আগে গণ পদত্যাগের সম্মুখীন হতে যাচ্ছে তুরস্কের প্রধান বিরোধীদল সিএইচপি। গত বুধবার দলটির সাবেক এমপি মুহাম্মাদ সেভিগেন এক সাক্ষাতকারে এই আশংকা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, সম্ভাব্য প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়নের শেষ তারিখ ৯ এপ্রিল ক্ষোভের আকাশ ভেঙ্গে পড়তে পারে সিএইচপির উপর। তালিকা প্রকাশিত হলে গণহারে পদত্যাগের মুখোমুখি হতে পারে দলটি।

দলটির সাবেক গুরুত্বপূর্ণ এই নেতা বলেন, জোটের প্রশ্নে নিজ দলের নিবেদিত প্রাণ সদস্যদের উপেক্ষা করা হচ্ছে। যে জোটের একমাত্র লক্ষ্য উদ্দেশ্য কোনো উন্নয়ন নয় বরং প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে তার পদ থেকে উৎখাত করা! দলের নিবেদিত প্রাণ সদস্যরা এখন সিএইচপির কাছে মূল্যহীন হয়ে পড়েছে।

এরদোগান ও তার দল একে পার্টি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ধারাবাহিক ভাবে নির্বাচনে সফলতা দেখিয়ে আসছে উল্লেখ করে এসময় মুহাম্মাদ সেভিগেন আফসোস প্রকাশ করেন এবং তার সাবেক রাজনৈতিক দল সিএইচপির কঠোর সমালোচনাও করেন।

তিনি বলেন, তারা জোটের অন্য দলের স্বার্থে নিজেদের রক্ত-মাংস আলাদা করে ফেলছে। ইতিমধ্যে দলের সমস্ত খাঁটি আতাতুর্কবাদীদের বাদ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ কামাল ও আতাতুর্কবাদীরাই হলো তূর্কী প্রজাতন্ত্রের পিতা মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক প্রতিষ্ঠিত দল সিএইচপির মেরুদণ্ড।

তিনি আরো বলেন, কামালবাদীরা আতাতুর্কবাদীদের চেয়ে বেশি উদার হলেও কঠোরভাবে ধর্মনিরপেক্ষ মতাদর্শ অনুসরণ করে চলে। বর্তমানের সিএইচপিতে এসবের কিছুই নেই। সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি দলে পরিণত হয়েছে সিএইচপি। বিভিন্ন মতাদর্শের অনুসারীদের দেখা যায় এখন দলটিতে।

জানা যায়, এরদোগানের ‘একে পার্টির’ সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ‘সিএইচপি’ নিজেদের কৌশলের কারণেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে।

এরদোগান বিরোধী জোট ন্যাশনাল এলায়েন্সের প্রধান দলটি আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিবেদিত প্রাণ সদস্যদের গুরুত্ব না দিয়ে অন্য দলের প্রার্থীদের তালিকাভূক্ত করতে বাধ্য হচ্ছে। কেননা আসন্ন নির্বাচনে তাদের সফল হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। ফলে বিরোধী দলীয় জোটটিতে দেখা দিচ্ছে মারাত্মক দ্বন্দ্ব ও গণপদত্যাগের সম্ভাবনা।

ছোট মিত্রদলগুলোর প্রার্থীদের জায়গা করে দিতে সম্ভাব্য সংসদীয় প্রার্থী নির্ধারণী ইন্টারপার্টি ভোটিং বা জোটের সর্বদলীয় প্রার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ায় ইতিমধ্যে তুমুল সমালোচনার মুখেও পড়েছে তারা।

এছাড়া দেশজুড়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ায় স্বয়ং নিজ দলের স্থানীয় শাখাগুলোরও রোষানলে পড়তে হচ্ছে বিরোধী দলীয় জোট প্রধান এই দলটিকে।

সূত্র: ডেইলি সাবাহ

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ