ভারতের হিন্দুত্ববাদী ক্ষমতাসীন দল বিজেপির এক বিধায়ক হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাতে গিয়ে ভোপালের মুসলিমপ্রধান কাজি ক্যাম্পে মিসাইল হামলার হুমকি দিয়েছেন। এ বক্তব্য নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হলে পরে তিনি দাবি করেন, ভোপালের কাজি ক্যাম্প নয়, পাকিস্তানের ইসলামাবাদের একটি ‘কাজি ক্যাম্পকে’ উদ্দেশ্য করে তিনি ওই কথা বলেছেন। তবে ইসলামাবাদে এ নামে কোনো জায়গা আছে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস নেতারা।
রোববার রাতে মধ্যপ্রদেশের ভোপালের করোন্দ এলাকার ভগৎ সিং চত্বরে আয়োজিত একটি ‘মটকি ফোড়’ প্রতিযোগিতায় বক্তব্য দেন হুজুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক রামেশ্বর শর্মা।
হিন্দু ঐক্য, জাতীয়তাবাদ ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার একপর্যায়ে তিনি বলেন, “করোন্দ চত্বর থেকে মিসাইল ছুড়লে সেটি যেন কাজি ক্যাম্পে গিয়ে পড়ে।”
কাজি ক্যাম্প ভোপালের পুরোনো অংশের একটি মুসলিমপ্রধান এলাকা।
একই বক্তব্যে শর্মা হিন্দুদের জাতপাতের বিভাজন ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, হিন্দুদের ঐক্য শুধু মটকি ফোড় প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; সমাজের সব স্তরেই তাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
তিনি হিন্দুদের জাতপাতের পরিচয়ের চেয়ে নিজেদের ‘হিন্দু ও ভারতীয়’ পরিচয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ারও আহ্বান জানান।
পাকিস্তানের প্রসঙ্গ টেনে বিজেপির এই বিধায়ক বলেন, একদিন লাহোর, ঢাকা ও ইসলামাবাদেও মটকি ফোড় প্রতিযোগিতা হবে। উপস্থিত লোকজনকে তিনি প্রশ্ন করেন, তারা ইসলামাবাদে মটকি ভাঙতে চান কি না। এরপর বলেন, সেখানে আগে ‘মটকি’ ভাঙতে হবে।
হিন্দু ঐক্যের ডাক দিতে গিয়ে মুসলিমপ্রধান কাজি ক্যাম্পের নাম উল্লেখ করে মিসাইল হামলার এমন বক্তব্য দেওয়ায় তীব্র বিতর্ক শুরু হয়।
সমালোচনার মুখে পরে শর্মা বলেন, “আমি এখানকার কাজি ক্যাম্পের কথা বলিনি; ইসলামাবাদের কাজি ক্যাম্পের কথা বলেছি।”
তবে তার এ ব্যাখ্যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কংগ্রেসের মিডিয়া সমন্বয়ক আব্বাস হাফিজ বলেন, ইন্টারনেটে খুঁজেও পাকিস্তানে ‘কাজি ক্যাম্প’ নামে কোনো জায়গার সন্ধান পাননি তিনি। তাহলে শর্মা আসলে কোন কাজি ক্যাম্পের কথা বলেছেন, সে প্রশ্ন তোলেন হাফিজ।
তিনি প্রকাশ্য মঞ্চে ভোপালের কাজি ক্যাম্পের নাম উল্লেখ করে মিসাইল হামলার এমন বক্তব্যের নিন্দা জানান। পাশাপাশি মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের কাছে সরকারের অবস্থান জানতে চান এবং বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে প্রশ্ন তোলেন।
মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র রাহুল রাজ ঘটনাটিকে বিজেপি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) ‘দ্বৈত চরিত্রের প্রকৃত উদাহরণ’ বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “একদিকে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ‘যে হিন্দু মুসলিমদের ঘৃণা করে, সে হিন্দুই হতে পারে না।’ অন্যদিকে ভোপালের একজন বিজেপি বিধায়ক কাজি ক্যাম্পে মিসাইল ফেলার কথা বলেন। এটিই বিজেপি ও আরএসএসের প্রকৃত দ্বৈত চরিত্র।”
অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির সংখ্যালঘু বিভাগের ছত্তিশগড়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ড. আমিনুল খান সুরি বলেন, “করোন্দ চত্বর থেকে ‘মিসাইল’ ছুড়ে কাজি ক্যাম্পে ফেলার কথা বলা কোনো ভাষাতেই বীরত্ব নয়; এটি একজন জনপ্রতিনিধির চরম দায়িত্বহীন ও উসকানিমূলক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।”
মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেস নেতা আসাদ উদ্দিন কুরওয়াই বক্তব্যটিকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টকারী উসকানিমূলক বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করে শর্মার বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর দায়েরের দাবি জানান।
সাংবাদিক কালপেশ রাভালও শর্মার ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “ইসলামাবাদে কোনো কাজি ক্যাম্প নেই।” তিনিও বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের দাবি জানান।
সূত্র : মাকতুব মিডিয়া












